DHAKA 3:05 pm, Friday, 1 May 2026

সুন্দরবনের উপর থেকে চাপ কমাতে ওয়াইল্ডটিমের বিকল্প ব্যবস্থা

মোংলা প্রতিনিধি
  • Update Time : 09:04:01 অপরাহ্ন, সোমবার, 23 ফেব্রুয়ারি 2026
  • / 134 Time View
১৫০

মোংলায় ওয়াইল্ডটিমের আয়োজনে জয়মনি এলাকায় অবস্থিত ওয়াইল্ডটিম কনজারভেশন বায়োলজি সেন্টারে (২৩ ফেব্রুয়ারি) সোমবার বিকালে জয়মনি গ্রামে উন্নত চুলা (আই সি এস) কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বন- প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জ্বালানি কাঠের ব্যবহার কমানো এবং সুন্দরবনের ওপর নির্ভরতা হ্রাস করাই এর মুল লক্ষ্য। জয়মনি সুন্দরবনের নিকটবর্তী একটি বন-প্রান্তিক এলাকা, যেখানে কাঠের উপর নির্ভরতা বেশি। এর ফলে বন থেকে কাঠ সংগ্রহের চাপ বৃদ্ধি পায়। উন্নত চুলা ব্যবহারে প্রায় ৫০ ভাগ জ্বালানি সাশ্রয় হয়,উন্নত চুলা ব্যবহারের মাধ্যমে কম জ্বালানি কাঠে রান্না সম্ভব, ধোঁয়া কম উৎপন্ন হয়,স্বাস্থ্যঝুকি হ্রাস পায় এবং পরিবারগুলোর সময় ও ব্যয় সাশ্রয় হয়। একই সঙ্গে বনসম্পদের ওপর সরাসরি চাপ কমে,যা দীর্ঘমেয়াদে বন সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

উক্ত উন্নত চুলা (আই সি এস) বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্টানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিতি ছিলেন সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিম চৌধুরী,বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিতি ছিলেন চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা দীপন চন্দ্র দাস, চিলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ ফারুক হোসেন হাওলাদার, ওয়াইল্ডটিম প্রতিনিধি আবু জাফর। এই সময় প্রধান অতিথি রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন”এই উন্নত চুলা অনেক সাশ্রয়ী। আপনারা এই চুলা ব্যবহার করলে আপনাদের খরচ অনেক কমে আসবে। পাশাপাশি সুন্দরবনের উপর জ্বালানির চাপও কমবে। আপনার অবশ্যই এলাকা থেকে কাঠ সংগ্রহ করে চুলায় রান্না করবেন।সুন্দরবন থেকে অবৈধভাবে কাঠ সংগ্রহ করে কেউ রান্না করবেন না। গাছ কাটলে সুন্দরবনের সরাসরি অনেক ক্ষতি হয়ে যায়। এই চুলা ব্যবহার করলে জ্বালানি ৫০ ভাগ সাশ্রয়ী হবে। আপনাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমবে। পরিবেশের ভারসাম্য‌ও ঠিক থাকবে।

এই কর্মসূচির পরবর্তী সফল অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতা। ২০১৮-২০২৫ মেয়াদে কে এফ ডব্লিউ ও আই ইউ সি এন-এর সহযোগীতায় ইন্টিগ্রেটেড টাইগার হেবিটেট কনজারভেশন প্রোগ্রামের প্রথম ও দ্বিতীয় পযার্য়ের সহায়তায় বাস্তবিক উদ্যোগে বেইসলাইন থেকে এন্ডলাইন পরিমাপে জানা যায় জ্বালানি কাঠের ব্যবহার ৩০ ভাগ হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া নির্বাচিত ৪৫ টি ঝুকিপূর্ণ এলাকায় সোলার লাইটিং স্থাপনের মাধ্যমে গ্রাম -প্রান্তে আলোকিত পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি সাতক্ষীরায় ৩টি টাইগার টলারেন্ট ভিলেজ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওয়াইল্ডটিমের আগামী ৫ বছরে ১০০০টি এবং চলতি বছরে ২০০ টি উন্নত চুলা বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

সুন্দরবনের উপর থেকে চাপ কমাতে ওয়াইল্ডটিমের বিকল্প ব্যবস্থা

Update Time : 09:04:01 অপরাহ্ন, সোমবার, 23 ফেব্রুয়ারি 2026
১৫০

মোংলায় ওয়াইল্ডটিমের আয়োজনে জয়মনি এলাকায় অবস্থিত ওয়াইল্ডটিম কনজারভেশন বায়োলজি সেন্টারে (২৩ ফেব্রুয়ারি) সোমবার বিকালে জয়মনি গ্রামে উন্নত চুলা (আই সি এস) কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বন- প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জ্বালানি কাঠের ব্যবহার কমানো এবং সুন্দরবনের ওপর নির্ভরতা হ্রাস করাই এর মুল লক্ষ্য। জয়মনি সুন্দরবনের নিকটবর্তী একটি বন-প্রান্তিক এলাকা, যেখানে কাঠের উপর নির্ভরতা বেশি। এর ফলে বন থেকে কাঠ সংগ্রহের চাপ বৃদ্ধি পায়। উন্নত চুলা ব্যবহারে প্রায় ৫০ ভাগ জ্বালানি সাশ্রয় হয়,উন্নত চুলা ব্যবহারের মাধ্যমে কম জ্বালানি কাঠে রান্না সম্ভব, ধোঁয়া কম উৎপন্ন হয়,স্বাস্থ্যঝুকি হ্রাস পায় এবং পরিবারগুলোর সময় ও ব্যয় সাশ্রয় হয়। একই সঙ্গে বনসম্পদের ওপর সরাসরি চাপ কমে,যা দীর্ঘমেয়াদে বন সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

উক্ত উন্নত চুলা (আই সি এস) বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্টানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিতি ছিলেন সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিম চৌধুরী,বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিতি ছিলেন চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা দীপন চন্দ্র দাস, চিলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ ফারুক হোসেন হাওলাদার, ওয়াইল্ডটিম প্রতিনিধি আবু জাফর। এই সময় প্রধান অতিথি রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন”এই উন্নত চুলা অনেক সাশ্রয়ী। আপনারা এই চুলা ব্যবহার করলে আপনাদের খরচ অনেক কমে আসবে। পাশাপাশি সুন্দরবনের উপর জ্বালানির চাপও কমবে। আপনার অবশ্যই এলাকা থেকে কাঠ সংগ্রহ করে চুলায় রান্না করবেন।সুন্দরবন থেকে অবৈধভাবে কাঠ সংগ্রহ করে কেউ রান্না করবেন না। গাছ কাটলে সুন্দরবনের সরাসরি অনেক ক্ষতি হয়ে যায়। এই চুলা ব্যবহার করলে জ্বালানি ৫০ ভাগ সাশ্রয়ী হবে। আপনাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমবে। পরিবেশের ভারসাম্য‌ও ঠিক থাকবে।

এই কর্মসূচির পরবর্তী সফল অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতা। ২০১৮-২০২৫ মেয়াদে কে এফ ডব্লিউ ও আই ইউ সি এন-এর সহযোগীতায় ইন্টিগ্রেটেড টাইগার হেবিটেট কনজারভেশন প্রোগ্রামের প্রথম ও দ্বিতীয় পযার্য়ের সহায়তায় বাস্তবিক উদ্যোগে বেইসলাইন থেকে এন্ডলাইন পরিমাপে জানা যায় জ্বালানি কাঠের ব্যবহার ৩০ ভাগ হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া নির্বাচিত ৪৫ টি ঝুকিপূর্ণ এলাকায় সোলার লাইটিং স্থাপনের মাধ্যমে গ্রাম -প্রান্তে আলোকিত পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি সাতক্ষীরায় ৩টি টাইগার টলারেন্ট ভিলেজ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওয়াইল্ডটিমের আগামী ৫ বছরে ১০০০টি এবং চলতি বছরে ২০০ টি উন্নত চুলা বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে।