DHAKA 4:14 pm, Thursday, 12 March 2026

সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্ব র‌্যাব থেকে গেল পিবিআইয়ের কাছে

  • Update Time : 06:39:21 পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, 14 নভেম্বর 2024
  • / 251 Time View
৯৩

অগ্নিশিখা ডেস্কঃ ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি তাদের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন।

এক যুগ পর সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্ব পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দেওয়া হয়েছে। মামলার আগের তদন্ত সংস্থা র‍্যাবের কাছ থেকে মামলার নথিপত্র বুঝে নিয়েছে পিবিআই। সংস্থাটি এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।

তদন্তভার নিয়েই তিন হাজার ২০১ পৃষ্ঠার মামলার নথি (কেস ডকেট) গ্রহণ করেছে তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজিজুল হক দায়িত্ব পেয়ে জানান,র‍্যাবের কাছ থেকে মামলাসংশ্লিষ্ট সব কাগজপত্র বুঝে পেয়েছি। তদন্তকাজ নতুন করে শুরু করেছি। তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শেষ করা হবে।

এতে বিচার পাওয়া নিয়ে আশাবাদী হচ্ছে পরিবার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর মামলাটির তদন্তে বিভিন্ন বাহিনীর অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট যেখানে, মামলার তদন্ত থেকে র‌্যাবকে সরিয়ে দেওয়ারও আদেশ দেওয়া হয় সাথে ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে বলা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।পরবর্তী আদেশের

পরে ১৭ অক্টোবর হাইকোর্টের নির্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে টাস্কফোর্স গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করলে পিবিআইপ্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে অ্যাডিশনাল ডিআইজি পদমর্যাদার নিচে নয় পুলিশের একজন প্রতিনিধি, সিআইডির একজন প্রতিনিধি ও র‌্যাবের একজন প্রতিনিধিকে রাখা হয়। এর আগে রাষ্ট্রপক্ষকে সহযোগিতা করার জন্য শিশির মনিরসহ ৯ আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন মামলার বাদী নওশের আলম।

পরে গত ২ অক্টোবর ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুল হকের আদালত শুনানি শেষে এ আবেদন মঞ্জুর করেন।

সর্বশেষ গত ১৫ অক্টোবর মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে ওই দিন তদন্ত প্রতিবেদন জমা না হওয়ায় আগামী ১৮ নভেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য করেন। এতে মামলাটি তদন্তে ১১২ বার সময় নিয়েছে তদন্ত সংস্থা।

পিবিআইকে মামলার তদন্তের দায়িত্ব ভার দেওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাগরের মা সালেহা মনির। তিনি বলেন, ‘আমি আগে থেকেই বলছিলাম, মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পিবিআইকে দেওয়া হোক। আমি আশা করি, পিবিআই আমার ছেলে ও পুত্রবধূর হত্যাকারীদের ধরতে পারবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্ব র‌্যাব থেকে গেল পিবিআইয়ের কাছে

Update Time : 06:39:21 পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, 14 নভেম্বর 2024
৯৩

অগ্নিশিখা ডেস্কঃ ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি তাদের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন।

এক যুগ পর সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্ব পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দেওয়া হয়েছে। মামলার আগের তদন্ত সংস্থা র‍্যাবের কাছ থেকে মামলার নথিপত্র বুঝে নিয়েছে পিবিআই। সংস্থাটি এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।

তদন্তভার নিয়েই তিন হাজার ২০১ পৃষ্ঠার মামলার নথি (কেস ডকেট) গ্রহণ করেছে তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজিজুল হক দায়িত্ব পেয়ে জানান,র‍্যাবের কাছ থেকে মামলাসংশ্লিষ্ট সব কাগজপত্র বুঝে পেয়েছি। তদন্তকাজ নতুন করে শুরু করেছি। তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শেষ করা হবে।

এতে বিচার পাওয়া নিয়ে আশাবাদী হচ্ছে পরিবার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর মামলাটির তদন্তে বিভিন্ন বাহিনীর অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট যেখানে, মামলার তদন্ত থেকে র‌্যাবকে সরিয়ে দেওয়ারও আদেশ দেওয়া হয় সাথে ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে বলা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মুহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।পরবর্তী আদেশের

পরে ১৭ অক্টোবর হাইকোর্টের নির্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে টাস্কফোর্স গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করলে পিবিআইপ্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে অ্যাডিশনাল ডিআইজি পদমর্যাদার নিচে নয় পুলিশের একজন প্রতিনিধি, সিআইডির একজন প্রতিনিধি ও র‌্যাবের একজন প্রতিনিধিকে রাখা হয়। এর আগে রাষ্ট্রপক্ষকে সহযোগিতা করার জন্য শিশির মনিরসহ ৯ আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন মামলার বাদী নওশের আলম।

পরে গত ২ অক্টোবর ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুল হকের আদালত শুনানি শেষে এ আবেদন মঞ্জুর করেন।

সর্বশেষ গত ১৫ অক্টোবর মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে ওই দিন তদন্ত প্রতিবেদন জমা না হওয়ায় আগামী ১৮ নভেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য করেন। এতে মামলাটি তদন্তে ১১২ বার সময় নিয়েছে তদন্ত সংস্থা।

পিবিআইকে মামলার তদন্তের দায়িত্ব ভার দেওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাগরের মা সালেহা মনির। তিনি বলেন, ‘আমি আগে থেকেই বলছিলাম, মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পিবিআইকে দেওয়া হোক। আমি আশা করি, পিবিআই আমার ছেলে ও পুত্রবধূর হত্যাকারীদের ধরতে পারবে।