DHAKA 5:29 pm, Thursday, 12 March 2026

যে কারণে মুন্নী সাহাকে ছেড়ে দিল ডিবি

  • Update Time : 06:47:22 পূর্বাহ্ন, রবিবার, 1 ডিসেম্বর 2024
  • / 188 Time View
৬৪

অগ্নিশিখা প্রতিবেদকঃ অসুস্থ হয়ে পড়ায় সাংবাদিক মুন্নী সাহাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। শনিবার রাতে তাকে পরিবারের জিম্মায় ছাড়া হয়।

ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) তালেবুর রহমান বিষয়টি সমকালকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অসুস্থতার কারণে আইনি প্রক্রিয়ায় মুন্নি সাহাকে রাতে তার পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ৯টার পরে রাজধানীর কাওরান বাজারে ‘এক টাকার খবরে’র অফিস থেকে বের হয়ে সবজি কিনতে যান মুন্নী সাহা। জনতা টাওয়ারের সামনে সবজি কেনার সময় জনতার তোপের মুখে পড়েন। বেশ কিছুক্ষণ তাকে ঘিরে রাখা হয়। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তেজগাঁও থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। তাদের কাছ থেকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয় মুন্নি সাহাকে। তার বিরুদ্ধে থাকা একাধিক মামলার মধ্যে যে কোনো একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হতে পারে বলে এমন কথা জানিয়েছিল তেজগাঁও থানার ওসি। এমনকি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে বলেও জানানো হয়। কিন্তু ডিবি কার্যালয়ে যাওয়ার পর তার প্যানিক অ্যাটাক হওয়াসহ অসুস্থতা কারণ হিসেবে দেখা দেয়। তখন ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৭ ধারায় জামিন নেওয়ার শর্তসহ নানা দিক বিবেচনায় রাতেই তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

মুন্নী সাহা ‘এক টাকার খবর’ নামের একটি অনলাইন পোর্টালের সম্পাদক।

গত ৬ অক্টোবর মুন্নী সাহার সব ধরনের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চায় বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

চিঠিতে মুন্নী সাহার আমানত, ঋণ, ক্রেডিট কার্ড, ফরেন ট্রেড, এক্সচেঞ্জ, লকার ও অফশোর ব্যাংকিংয়ের তথ্য চাওয়া হয়।

ভোরের কাগজ দিয়ে মুন্নী সাহার সাংবাদিকতা শুরু। সেখান থেকে তিনি যান একুশে টেলিভিশনে। এরপর যোগ দেন এটিএন বাংলায়। এটিএন নিউজের শুরু থেকেই তিনি যুক্ত ছিলেন। মালিকপক্ষের সঙ্গে বিরোধের জেরে ২০২৩ সালের ৩১ মে মুন্নী সাহা এটিএন নিউজ থেকে পদত্যাগ করেন।

গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে গুলিতে শিক্ষার্থী নাঈম হাওলাদার (১৭) নিহতের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। গত ২২ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় ওই মামলা করেন নিহত শিক্ষার্থীর বাবা মো. কামরুল ইসলাম।

সে মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ একাধিক মন্ত্রী-এমপি, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ সদস্য এবং পুলিশ ও র‍্যাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে যে ৭ সাংবাদিককে আসামি করা হয়, তাদের একজন মুন্নী সাহা।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

যে কারণে মুন্নী সাহাকে ছেড়ে দিল ডিবি

Update Time : 06:47:22 পূর্বাহ্ন, রবিবার, 1 ডিসেম্বর 2024
৬৪

অগ্নিশিখা প্রতিবেদকঃ অসুস্থ হয়ে পড়ায় সাংবাদিক মুন্নী সাহাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। শনিবার রাতে তাকে পরিবারের জিম্মায় ছাড়া হয়।

ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) তালেবুর রহমান বিষয়টি সমকালকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অসুস্থতার কারণে আইনি প্রক্রিয়ায় মুন্নি সাহাকে রাতে তার পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ৯টার পরে রাজধানীর কাওরান বাজারে ‘এক টাকার খবরে’র অফিস থেকে বের হয়ে সবজি কিনতে যান মুন্নী সাহা। জনতা টাওয়ারের সামনে সবজি কেনার সময় জনতার তোপের মুখে পড়েন। বেশ কিছুক্ষণ তাকে ঘিরে রাখা হয়। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তেজগাঁও থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। তাদের কাছ থেকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয় মুন্নি সাহাকে। তার বিরুদ্ধে থাকা একাধিক মামলার মধ্যে যে কোনো একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হতে পারে বলে এমন কথা জানিয়েছিল তেজগাঁও থানার ওসি। এমনকি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে বলেও জানানো হয়। কিন্তু ডিবি কার্যালয়ে যাওয়ার পর তার প্যানিক অ্যাটাক হওয়াসহ অসুস্থতা কারণ হিসেবে দেখা দেয়। তখন ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৭ ধারায় জামিন নেওয়ার শর্তসহ নানা দিক বিবেচনায় রাতেই তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

মুন্নী সাহা ‘এক টাকার খবর’ নামের একটি অনলাইন পোর্টালের সম্পাদক।

গত ৬ অক্টোবর মুন্নী সাহার সব ধরনের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চায় বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

চিঠিতে মুন্নী সাহার আমানত, ঋণ, ক্রেডিট কার্ড, ফরেন ট্রেড, এক্সচেঞ্জ, লকার ও অফশোর ব্যাংকিংয়ের তথ্য চাওয়া হয়।

ভোরের কাগজ দিয়ে মুন্নী সাহার সাংবাদিকতা শুরু। সেখান থেকে তিনি যান একুশে টেলিভিশনে। এরপর যোগ দেন এটিএন বাংলায়। এটিএন নিউজের শুরু থেকেই তিনি যুক্ত ছিলেন। মালিকপক্ষের সঙ্গে বিরোধের জেরে ২০২৩ সালের ৩১ মে মুন্নী সাহা এটিএন নিউজ থেকে পদত্যাগ করেন।

গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে গুলিতে শিক্ষার্থী নাঈম হাওলাদার (১৭) নিহতের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। গত ২২ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় ওই মামলা করেন নিহত শিক্ষার্থীর বাবা মো. কামরুল ইসলাম।

সে মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ একাধিক মন্ত্রী-এমপি, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ সদস্য এবং পুলিশ ও র‍্যাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে যে ৭ সাংবাদিককে আসামি করা হয়, তাদের একজন মুন্নী সাহা।