DHAKA 5:22 pm, Thursday, 12 March 2026

ফতুল্লায় ফার্মেসিতে চাঁদা না দেওয়ায় হামলা, থানায় অভিযোগের পরও নেই ব্যবস্থা

সাহাব উদ্দীন, বিশেষ প্রতিবেদক
  • Update Time : 08:05:12 অপরাহ্ন, রবিবার, 18 জানুয়ারি 2026
  • / 498 Time View
৫৩১

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক ফার্মেসিতে হামলা, মারধর, কুপিয়ে জখম ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ফতুল্লা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখনো পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের।

ভুক্তভোগী ক্লিন্টন রায় (৩৪), পিতা—শ্রী কৃষ্ণ চন্দ্র রায়, সা-শিবু মার্কেট, কামিনী মসজিদ সংলগ্ন, থানা—ফতুল্লা, জেলা—নারায়ণগঞ্জ, জানান—তার ছোট ভাই আপন চন্দ্র রায় (২৭) ফতুল্লা থানাধীন পূর্ব লামপাড়া এলাকায় রূপসী গার্মেন্টস সংলগ্ন মঞ্জুর হোসেনের বাড়ির নিচতলায় ভাড়া নেওয়া দোকানে “মা মেডিসিন কর্নার” নামে একটি ফার্মেসি পরিচালনা করে আসছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মোঃ সাইফুল (২৭), পিতা—আমির কানা আমির এবং আমির কানা আমির (৫৭) সহ আরও ৭/৮ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ওই ফার্মেসিতে এসে বিভিন্ন অংকের চাঁদা দাবি করে আসছিল।

গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে ফার্মেসিতে বেচাকেনার সময় অভিযুক্ত সাইফুল তার সহযোগীদের নিয়ে দোকানে প্রবেশ করে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা আপন চন্দ্র রায়কে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বেধড়ক মারধর শুরু করে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা ও গুরুতর জখম হয়।

একপর্যায়ে দোকানে থাকা সিজার/সেচি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আপন চন্দ্র রায়ের গলার ডান পাশে কোপ মেরে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করা হয়। পাশাপাশি দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। হামলার সময় ফার্মেসির ক্যাশ থেকে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা।

ভুক্তভোগীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগের আগে হুমকি দিয়ে বলে—“এ বিষয়ে থানা-পুলিশ করলে তোকে ও তোর পরিবারের সবাইকে খুন করে গুম করে ফেলবো।”

পরে বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযুক্ত আমির কানা আমিরও ভুক্তভোগী পরিবারকে নানা হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং মামলা করলে হত্যার হুমকি দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ফতুল্লা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার বা দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগকারী জানান, এ বিষয়ে ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-কে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

ফতুল্লায় ফার্মেসিতে চাঁদা না দেওয়ায় হামলা, থানায় অভিযোগের পরও নেই ব্যবস্থা

Update Time : 08:05:12 অপরাহ্ন, রবিবার, 18 জানুয়ারি 2026
৫৩১

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক ফার্মেসিতে হামলা, মারধর, কুপিয়ে জখম ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ফতুল্লা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখনো পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের।

ভুক্তভোগী ক্লিন্টন রায় (৩৪), পিতা—শ্রী কৃষ্ণ চন্দ্র রায়, সা-শিবু মার্কেট, কামিনী মসজিদ সংলগ্ন, থানা—ফতুল্লা, জেলা—নারায়ণগঞ্জ, জানান—তার ছোট ভাই আপন চন্দ্র রায় (২৭) ফতুল্লা থানাধীন পূর্ব লামপাড়া এলাকায় রূপসী গার্মেন্টস সংলগ্ন মঞ্জুর হোসেনের বাড়ির নিচতলায় ভাড়া নেওয়া দোকানে “মা মেডিসিন কর্নার” নামে একটি ফার্মেসি পরিচালনা করে আসছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মোঃ সাইফুল (২৭), পিতা—আমির কানা আমির এবং আমির কানা আমির (৫৭) সহ আরও ৭/৮ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ওই ফার্মেসিতে এসে বিভিন্ন অংকের চাঁদা দাবি করে আসছিল।

গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে ফার্মেসিতে বেচাকেনার সময় অভিযুক্ত সাইফুল তার সহযোগীদের নিয়ে দোকানে প্রবেশ করে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা আপন চন্দ্র রায়কে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বেধড়ক মারধর শুরু করে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা ও গুরুতর জখম হয়।

একপর্যায়ে দোকানে থাকা সিজার/সেচি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আপন চন্দ্র রায়ের গলার ডান পাশে কোপ মেরে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করা হয়। পাশাপাশি দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। হামলার সময় ফার্মেসির ক্যাশ থেকে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা।

ভুক্তভোগীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগের আগে হুমকি দিয়ে বলে—“এ বিষয়ে থানা-পুলিশ করলে তোকে ও তোর পরিবারের সবাইকে খুন করে গুম করে ফেলবো।”

পরে বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযুক্ত আমির কানা আমিরও ভুক্তভোগী পরিবারকে নানা হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং মামলা করলে হত্যার হুমকি দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ফতুল্লা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার বা দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগকারী জানান, এ বিষয়ে ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-কে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।