DHAKA 1:45 pm, Thursday, 16 April 2026

ওসমানীনগরে প্রাথমি শিক্ষার মান নিম্নমূখী ভূল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণ

  • Update Time : 08:02:28 পূর্বাহ্ন, রবিবার, 8 ডিসেম্বর 2024
  • / 243 Time View
৯৪

ওসমানীনগর প্রতিনিধিঃ সিলেটের ওসমানীনগরে তাজপুর ইউনিয়নের সিলমানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় পরিক্ষায় পঞ্চম শ্রেণির প্রশ্নপত্র দিয়ে ৩য় শ্রনীর শিক্ষার্থীদের বার্ষীক পরিক্ষা গ্রহন করার অভিযোগ উঠেছে। এতে উক্ত বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করে পরিক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

পরিক্ষা শেষে অভিভাবকরা প্রশ্নপত্র দেখে শিক্ষকদের বিষয়টি জানালে এই বিষয়ে আর কারো সাথে আলাপ না করার পরামর্শ দেন সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উম্মে সালমা। শুক্রবার বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলায় তুমুল আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তবে, এমন ভুল হতেই পারে বলে জানিয়েছেন ওসমানীনগর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা সানাউল হক সানি।

এদিকে, এসব বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য একাধিক ব্যক্তিদের দিয়ে সাংবাদিকদের কাছে তদবির করান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উম্মে সালমা। ভুল প্রশ্নপত্রে পরিক্ষা গ্রহনে অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করায় শনিবার সকাল ১১টায় এই ঘটনায় বিদ্যালয়ে একটি সভার আয়োজন করেছেন প্রধান শিক্ষক।

জানা গেছে, গত ০৩ ডিসেম্বর থেকে একযোগে উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরিক্ষা শুরু হয়ে আগামী ১১ ডিসেম্বর শেষ হবে। গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত তৃতীয় শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ১:৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত অন্যান্য শ্রেণির পাশাপাশি পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

সিলমানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় পরিক্ষায় পঞ্চম শ্রেণির প্রশ্নপত্রে গ্রহন করা হয় তৃতীয় শ্রেণির পরিক্ষা। এতে করে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পরিক্ষার আগে প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে যান।

অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উম্মে সালমা একই এলাকার হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে ইচ্ছা মতো বিদ্যালয় পরিচালনা করে আসছেন। যার ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দ্বায়িত্ব অবহেলার কারণে প্রশ্ন ফাঁস ও ভুল প্রশ্নপত্রে পরিক্ষা গ্রহন করা হয়েছে। দুই ঘন্টা তৃতীয় শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় পরিক্ষা চলাকালে দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত শিক্ষকরা প্রশ্নপত্র না দেখায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।

একাধিক অভিভাবকরা জানান, এই বিদ্যালয়ে অবহেলার মাধ্যমে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পরিক্ষা গ্রহন করা হচ্ছে। এতো বড় একটি ভুল শিক্ষকদের কাছ থেকে আশা করা যায় না। তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পঞ্চম শ্রেণির প্রশ্নপত্রে পরিক্ষা দেয়া সম্ভব নয়। পরিক্ষার পরে আমরা বিষয়টি প্রধান শিক্ষক উম্মে সালমাকে জানালে তিনি কারো সাথে এই বিষয়ে কথা না বলার জন্য বলেন।

পঞ্চম শ্রেণির প্রশ্নপত্রে তৃতীয় শ্রেণির পরিক্ষা গ্রহনের বিষয়টি স্বীকার করে সিলমানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উম্মে সালমা বলেন, এটা ভুল হয়েছে। এই বিষয়ে স্থানীয়দের নিয়ে আলোচনা চলছে।

তৃতীয় শ্রেণির পরিক্ষা পঞ্চম শ্রেণির প্রশ্নপত্রে নেয়া হয়েছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে ওসমানীনগর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা সানাউল হক সানি এই প্রতিবেদকে প্রশ্ন করেন এটা কিভাবে সম্ভব? সিলমানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পঞ্চম শ্রেণির প্রশ্নপত্র দিয়ে পরিক্ষা নেয়া হয়েছে জানালে তিনি বলেন, এমন ভুল হতেই পারে। তবে, এই বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। সিলেট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাখাওয়াত এরশেদ বলেন, এই বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

ওসমানীনগরে প্রাথমি শিক্ষার মান নিম্নমূখী ভূল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণ

Update Time : 08:02:28 পূর্বাহ্ন, রবিবার, 8 ডিসেম্বর 2024
৯৪

ওসমানীনগর প্রতিনিধিঃ সিলেটের ওসমানীনগরে তাজপুর ইউনিয়নের সিলমানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় পরিক্ষায় পঞ্চম শ্রেণির প্রশ্নপত্র দিয়ে ৩য় শ্রনীর শিক্ষার্থীদের বার্ষীক পরিক্ষা গ্রহন করার অভিযোগ উঠেছে। এতে উক্ত বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করে পরিক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।

পরিক্ষা শেষে অভিভাবকরা প্রশ্নপত্র দেখে শিক্ষকদের বিষয়টি জানালে এই বিষয়ে আর কারো সাথে আলাপ না করার পরামর্শ দেন সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উম্মে সালমা। শুক্রবার বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলায় তুমুল আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তবে, এমন ভুল হতেই পারে বলে জানিয়েছেন ওসমানীনগর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা সানাউল হক সানি।

এদিকে, এসব বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য একাধিক ব্যক্তিদের দিয়ে সাংবাদিকদের কাছে তদবির করান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উম্মে সালমা। ভুল প্রশ্নপত্রে পরিক্ষা গ্রহনে অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করায় শনিবার সকাল ১১টায় এই ঘটনায় বিদ্যালয়ে একটি সভার আয়োজন করেছেন প্রধান শিক্ষক।

জানা গেছে, গত ০৩ ডিসেম্বর থেকে একযোগে উপজেলার সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরিক্ষা শুরু হয়ে আগামী ১১ ডিসেম্বর শেষ হবে। গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত তৃতীয় শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ১:৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত অন্যান্য শ্রেণির পাশাপাশি পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

সিলমানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় পরিক্ষায় পঞ্চম শ্রেণির প্রশ্নপত্রে গ্রহন করা হয় তৃতীয় শ্রেণির পরিক্ষা। এতে করে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পরিক্ষার আগে প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে যান।

অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উম্মে সালমা একই এলাকার হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে ইচ্ছা মতো বিদ্যালয় পরিচালনা করে আসছেন। যার ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দ্বায়িত্ব অবহেলার কারণে প্রশ্ন ফাঁস ও ভুল প্রশ্নপত্রে পরিক্ষা গ্রহন করা হয়েছে। দুই ঘন্টা তৃতীয় শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় পরিক্ষা চলাকালে দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত শিক্ষকরা প্রশ্নপত্র না দেখায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।

একাধিক অভিভাবকরা জানান, এই বিদ্যালয়ে অবহেলার মাধ্যমে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পরিক্ষা গ্রহন করা হচ্ছে। এতো বড় একটি ভুল শিক্ষকদের কাছ থেকে আশা করা যায় না। তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পঞ্চম শ্রেণির প্রশ্নপত্রে পরিক্ষা দেয়া সম্ভব নয়। পরিক্ষার পরে আমরা বিষয়টি প্রধান শিক্ষক উম্মে সালমাকে জানালে তিনি কারো সাথে এই বিষয়ে কথা না বলার জন্য বলেন।

পঞ্চম শ্রেণির প্রশ্নপত্রে তৃতীয় শ্রেণির পরিক্ষা গ্রহনের বিষয়টি স্বীকার করে সিলমানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উম্মে সালমা বলেন, এটা ভুল হয়েছে। এই বিষয়ে স্থানীয়দের নিয়ে আলোচনা চলছে।

তৃতীয় শ্রেণির পরিক্ষা পঞ্চম শ্রেণির প্রশ্নপত্রে নেয়া হয়েছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে ওসমানীনগর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা সানাউল হক সানি এই প্রতিবেদকে প্রশ্ন করেন এটা কিভাবে সম্ভব? সিলমানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পঞ্চম শ্রেণির প্রশ্নপত্র দিয়ে পরিক্ষা নেয়া হয়েছে জানালে তিনি বলেন, এমন ভুল হতেই পারে। তবে, এই বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। সিলেট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাখাওয়াত এরশেদ বলেন, এই বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।