DHAKA 4:39 pm, Thursday, 12 March 2026

আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অসত্য: হাসনাত আব্দুল্লাহ

  • Update Time : 06:04:04 পূর্বাহ্ন, শনিবার, 28 ডিসেম্বর 2024
  • / 167 Time View
৭২

অগ্নিশিখা প্রতিবেদকঃ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, সম্প্রতি সময় টেলিভিশনের পাঁচ গণমাধ্যমকর্মীর আকস্মিক চাকরি হারানোর ঘটনায় ওঠা অভিযোগ অসত্য ও ষড়যন্ত্রমূলক। তিনি বলেন, এটি তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা।

শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এসব কথা বলেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সময় টেলিভিশনের পাঁচজন গণমাধ্যমকর্মীর আকস্মিক চাকরি হারানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেসব অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে তা অসত্য ও ষড়যন্ত্রমূলক। আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা ছাড়া আর কোনো উদ্দেশ্য আছে বলে আমার মনে হয় না। পুরো দেশবাসী জানে ফ্যাসিবাদী হাসিনার নিকৃষ্ট মুখপাত্র হিসেবে বছরের পর বছর ফ্যাসিবাদের প্রোপাগান্ডা সেল হিসেবে কাজ করেছে বেসরকারি চ্যানেল সময় টেলিভিশন।

তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধী দলীয় নেতাদের নিয়ে নিয়মিত ভুয়া ও কুরুচিকর প্রতিবেদন করায় ছিল সময় টিভির কাজ। আওয়ামী লীগের প্রোপাগান্ডা সেল সিআরআই’র সঙ্গে সমন্বয় করে জনবিরোধী অবস্থান নিয়ে বছরের পর বছর ধরে অনৈতিক ও অসৎ সাংবাদিকতা করেছে টেলিভিশন সংশ্লিষ্টরা। ফ্যাসিস্ট হাসিনার অন্যতম অনুচর কামরুল ইসলাম ছিল যার নেতৃত্বে। এখনও আওয়ামী লীগ নেতা কামরুল ইসলামের ভাই মোরশেদুল ইসলাম সময় টিভির সঙ্গেই আছেন। যিনি পতিত আওয়ামী লীগের পক্ষে ছাত্রজনতার চরিত্রহনন করছেন।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের এই সমন্বয়ক বলেন, এমন কোনো অন্যায় ও নৈতিকতা বিবর্জিত কাজ নেই যে এই সংবাদ মাধ্যমটি করেনি। এমনকি ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে সাংবাদিকতার নীতি নৈতিকতাকে বিসর্জন দিয়ে চট্টগ্রামের আইনজীবী শহীদ আলিফ হত্যাকাণ্ডের পরও ভুয়া তথ্য দিয়েছিল এ সংবাদ মাধ্যমটি। এসব কার্যক্রম নিয়ে আমরা আগে থেকেই সচেতন ও বিক্ষুব্ধ ছিলাম।

তিনি আরও বলেন, সময় টেলিভিশনের একজন সংবাদকর্মীর মাধ্যমে সিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মি. হাসানের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল। আমাদের সংক্ষিপ্ত বৈঠকে ৫ আগস্টের পরবর্তী পরিস্থিতিতে সময় টেলিভিশনে চলমান বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হয়েছিল। সেখানে আমিসহ উপস্থিত ব্যক্তিরা সঠিক সংবাদ প্রচার করে ফ্যাক্ট ভিত্তিক সাংবাদিকতার আহ্বান জানিয়েছিলাম। প্রোপাগান্ডামূলক সাংবাদিকতা থেকে বেরিয়ে আসার অনুরোধ করেছিলাম।

হাসনাত আরও বলেন, আমি দায়িত্ব নিয়ে এবং দৃঢ়তার সঙ্গে বলছি, সেখানে আমি কোনো সাংবাদিকের তালিকা দেইনি এবং চাকরি থেকে বাদ দেওয়া সাংবাদিকদের ব্যক্তিগতভাবে চিনিও না। বার্তা সংস্থা এএফপি এবং বিবিসি বাংলার কাছে আমি চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি আমি সিটি গ্রুপ এবং সময় টেলিভিশন কর্তৃপক্ষকে কোন সাংবাদিকের তালিকা দিয়েছি এবং কাউকে বরখাস্ত করতে চাপ দিয়েছি সেটির স্বপক্ষে যদি তাদের কাছে কোনো প্রমাণ থেকে থাকে সেটি যেন তারা হাজির করেন। যদি হাজির করতে না পারেন, তবে তা যেন স্বীকার করেন।

তিনি বলেন, আমি মনে করি, মি. হাসান অভিযোগ করেছেন এটা এ ধরনের একটি প্রতিবেদনের মূল ভিত্তি হতে পারে না। কারণ মি.হাসান যখন আমার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলছেন তখন বলছেন, আমি কোনো ছাঁটাইয়ের তালিকা তাকে সরবরাহ করিনি বা এমন কোনো কথা বলিনি। এই বক্তব্যের স্বপক্ষে আমি প্রমাণ দিতে পারব।

সমন্বয়ক হাসনাত আরও উল্লেখ করেন, সিটি গ্রুপের মালিক মি. হাসান আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য একটি গভীর ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে অসত্য এবং ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন, যা তার মালিকানাধীন টিভি চ্যানেল দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে হাসনাত আবদুল্লাহ চারটি দাবি উপস্থাপন করেন। সেগুলো হলো-

১. সময় টেলিভিশনের যে ৫ জন সাংবাদিককে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে- এ ব্যাপারে আমার দূরতম সংশ্লিষ্টতা নেই। আমি জোর দাবি জানাই, এই পাঁচজনকে চাকরিতে পুনর্বহালের।

২. যারা প্রকৃতভাবে এ ষড়যন্ত্রে জড়িত, তাদের চিহ্নিত করার জন্য একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।

৩. সিটি গ্রুপের মালিক মি. হাসান অসত্য তথ্য দিয়ে আমার চরিত্রহননের যে ষড়যন্ত্র করছে, তার জন্য তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে

৪.বিবিসির প্রতিবেদন প্রকাশের পর মি. হাসান বারবার বিভিন্ন প্রতিবেদককে দিয়ে আমার সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে যাচ্ছেন। যেগুলোর স্বপক্ষে আমার কাছে পরিষ্কার প্রমাণ রয়েছে। আমি তাদেরকে বলেছি উনি যদি বিবিসিকে এমন বক্তব্য না দিয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে গণমাধ্যমে প্রতিবাদ পাঠাতে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Save Your Email and Others Information

আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অসত্য: হাসনাত আব্দুল্লাহ

Update Time : 06:04:04 পূর্বাহ্ন, শনিবার, 28 ডিসেম্বর 2024
৭২

অগ্নিশিখা প্রতিবেদকঃ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, সম্প্রতি সময় টেলিভিশনের পাঁচ গণমাধ্যমকর্মীর আকস্মিক চাকরি হারানোর ঘটনায় ওঠা অভিযোগ অসত্য ও ষড়যন্ত্রমূলক। তিনি বলেন, এটি তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা।

শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এসব কথা বলেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সময় টেলিভিশনের পাঁচজন গণমাধ্যমকর্মীর আকস্মিক চাকরি হারানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেসব অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে তা অসত্য ও ষড়যন্ত্রমূলক। আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা ছাড়া আর কোনো উদ্দেশ্য আছে বলে আমার মনে হয় না। পুরো দেশবাসী জানে ফ্যাসিবাদী হাসিনার নিকৃষ্ট মুখপাত্র হিসেবে বছরের পর বছর ফ্যাসিবাদের প্রোপাগান্ডা সেল হিসেবে কাজ করেছে বেসরকারি চ্যানেল সময় টেলিভিশন।

তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধী দলীয় নেতাদের নিয়ে নিয়মিত ভুয়া ও কুরুচিকর প্রতিবেদন করায় ছিল সময় টিভির কাজ। আওয়ামী লীগের প্রোপাগান্ডা সেল সিআরআই’র সঙ্গে সমন্বয় করে জনবিরোধী অবস্থান নিয়ে বছরের পর বছর ধরে অনৈতিক ও অসৎ সাংবাদিকতা করেছে টেলিভিশন সংশ্লিষ্টরা। ফ্যাসিস্ট হাসিনার অন্যতম অনুচর কামরুল ইসলাম ছিল যার নেতৃত্বে। এখনও আওয়ামী লীগ নেতা কামরুল ইসলামের ভাই মোরশেদুল ইসলাম সময় টিভির সঙ্গেই আছেন। যিনি পতিত আওয়ামী লীগের পক্ষে ছাত্রজনতার চরিত্রহনন করছেন।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের এই সমন্বয়ক বলেন, এমন কোনো অন্যায় ও নৈতিকতা বিবর্জিত কাজ নেই যে এই সংবাদ মাধ্যমটি করেনি। এমনকি ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে সাংবাদিকতার নীতি নৈতিকতাকে বিসর্জন দিয়ে চট্টগ্রামের আইনজীবী শহীদ আলিফ হত্যাকাণ্ডের পরও ভুয়া তথ্য দিয়েছিল এ সংবাদ মাধ্যমটি। এসব কার্যক্রম নিয়ে আমরা আগে থেকেই সচেতন ও বিক্ষুব্ধ ছিলাম।

তিনি আরও বলেন, সময় টেলিভিশনের একজন সংবাদকর্মীর মাধ্যমে সিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মি. হাসানের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল। আমাদের সংক্ষিপ্ত বৈঠকে ৫ আগস্টের পরবর্তী পরিস্থিতিতে সময় টেলিভিশনে চলমান বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হয়েছিল। সেখানে আমিসহ উপস্থিত ব্যক্তিরা সঠিক সংবাদ প্রচার করে ফ্যাক্ট ভিত্তিক সাংবাদিকতার আহ্বান জানিয়েছিলাম। প্রোপাগান্ডামূলক সাংবাদিকতা থেকে বেরিয়ে আসার অনুরোধ করেছিলাম।

হাসনাত আরও বলেন, আমি দায়িত্ব নিয়ে এবং দৃঢ়তার সঙ্গে বলছি, সেখানে আমি কোনো সাংবাদিকের তালিকা দেইনি এবং চাকরি থেকে বাদ দেওয়া সাংবাদিকদের ব্যক্তিগতভাবে চিনিও না। বার্তা সংস্থা এএফপি এবং বিবিসি বাংলার কাছে আমি চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি আমি সিটি গ্রুপ এবং সময় টেলিভিশন কর্তৃপক্ষকে কোন সাংবাদিকের তালিকা দিয়েছি এবং কাউকে বরখাস্ত করতে চাপ দিয়েছি সেটির স্বপক্ষে যদি তাদের কাছে কোনো প্রমাণ থেকে থাকে সেটি যেন তারা হাজির করেন। যদি হাজির করতে না পারেন, তবে তা যেন স্বীকার করেন।

তিনি বলেন, আমি মনে করি, মি. হাসান অভিযোগ করেছেন এটা এ ধরনের একটি প্রতিবেদনের মূল ভিত্তি হতে পারে না। কারণ মি.হাসান যখন আমার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলছেন তখন বলছেন, আমি কোনো ছাঁটাইয়ের তালিকা তাকে সরবরাহ করিনি বা এমন কোনো কথা বলিনি। এই বক্তব্যের স্বপক্ষে আমি প্রমাণ দিতে পারব।

সমন্বয়ক হাসনাত আরও উল্লেখ করেন, সিটি গ্রুপের মালিক মি. হাসান আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য একটি গভীর ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে অসত্য এবং ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন, যা তার মালিকানাধীন টিভি চ্যানেল দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে হাসনাত আবদুল্লাহ চারটি দাবি উপস্থাপন করেন। সেগুলো হলো-

১. সময় টেলিভিশনের যে ৫ জন সাংবাদিককে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে- এ ব্যাপারে আমার দূরতম সংশ্লিষ্টতা নেই। আমি জোর দাবি জানাই, এই পাঁচজনকে চাকরিতে পুনর্বহালের।

২. যারা প্রকৃতভাবে এ ষড়যন্ত্রে জড়িত, তাদের চিহ্নিত করার জন্য একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।

৩. সিটি গ্রুপের মালিক মি. হাসান অসত্য তথ্য দিয়ে আমার চরিত্রহননের যে ষড়যন্ত্র করছে, তার জন্য তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে

৪.বিবিসির প্রতিবেদন প্রকাশের পর মি. হাসান বারবার বিভিন্ন প্রতিবেদককে দিয়ে আমার সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে যাচ্ছেন। যেগুলোর স্বপক্ষে আমার কাছে পরিষ্কার প্রমাণ রয়েছে। আমি তাদেরকে বলেছি উনি যদি বিবিসিকে এমন বক্তব্য না দিয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে গণমাধ্যমে প্রতিবাদ পাঠাতে।