বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।
২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন তিনি। মৃত্যুর দুদিন পর তার মরদেহ দেশে আনা হয় এবং ২৭ জানুয়ারি ঢাকায় লাখো শোকাহত মানুষের উপস্থিতিতে এক বিশাল জানাজার পর বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। তার জানাজা দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ জানাজা হিসেবে বিবেচিত।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দলীয় ও পারিবারিকভাবে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সকাল থেকে বনানী কবরস্থানে কুরআন খতমের আয়োজন করা হয়। রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বিকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়েও মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
এদিন রাজধানীর বনানীতে আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ নেতারা কবর জিয়ারত, দোয়া ও পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। এ সময় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হকসহ অন্যান্য নেতাকর্মী ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ওয়ান-ইলেভেন এবং আওয়ামী লীগ সরকার আমলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণেই আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর এক-এগারোর সময় ঢাকা সেনানিবাসের মইনুল রোডের বাসা থেকে তৎকালীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকোকেও গ্রেপ্তার করা হয়। ২০০৮ সালের ১৭ জুলাই জামিনে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে থাইল্যান্ড যান তিনি। পরে সেখান থেকে মালয়েশিয়ায় চলে যান এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করেন।
১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট জন্মগ্রহণকারী আরাফাত রহমান কোকো ২০০৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন। এছাড়া তিনি ওল্ড ডিওএইচএস ক্লাবের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
ব্যক্তিজীবনে তিনি স্ত্রী শর্মিলা রহমান এবং দুই কন্যা—জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমানকে রেখে গেছেন।