ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল ও ৪ রাউন্ড গুলিসহ এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, অভিযানটির মাধ্যমে এলাকায় দীর্ঘদিনের একটি আতঙ্ক ও সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিরসন হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে কাছাকাছি দোকানপাটে চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকলেও ভীতি ও হুমকির কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে পারছিলেন না। অভিযানের পর এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সেনা সূত্রে জানা যায়, ২১ জানুয়ারি ভোর ৫টা ২৫ মিনিটে নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যে কানাইপুর এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসে। একইসঙ্গে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নিকটবর্তী ভোটকেন্দ্রসমূহে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করা হয়। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মধুখালী আর্মি ক্যাম্পের নেতৃত্বে ১৫ রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন এবং স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে দ্রুত যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সন্দেহভাজনের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ১টি বিদেশি পিস্তল ও ৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয় এবং মো. জহির মোল্লা ওরফে জহির (৩৬), পিতা: মো. লতিফ মোল্লা, গ্রাম: কানাইপুর, থানা: কোতোয়ালি, জেলা: ফরিদপুর—কে আটক করা হয়।
আসামি এবং উদ্ধারকৃত অস্ত্র-গোলাবারুদ আইনগত প্রক্রিয়ায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সেনা সূত্র মতে জানা যায়, বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা বাস্তবায়নে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাদক, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছে সেনাবাহিনী। অপরাধ দমনে সেনা ক্যাম্পসমূহকে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদানের মাধ্যমে সহায়তা করার জন্য সকল নাগরিককে আহ্বান জানানো হয়েছে।