অনুসন্ধানী প্রতিবেদন- পর্ব ০১
একটির পর একটি লিখিত অভিযোগ, ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশ, নাম–ছবি প্রকাশ্যে—সবকিছুই সামনে থাকার পরও রহস্যজনক কারণে এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ সন্ত্রাসীরা। প্রশ্ন উঠেছে—তবে কি প্রশাসন সবকিছু দেখেও না দেখার ভান করছে?
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভয়ভীতি, চাঁদাবাজি, জমি দখল ও নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠতার কারণে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় একাধিক ভুক্তভোগী ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন,“আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি, ঊর্ধ্বতন দপ্তরে আবেদন করেছি, একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। সব প্রমাণ সামনে থাকার পরও যদি গ্রেপ্তার না হয়, তাহলে প্রশ্ন আসে—আর কত সংবাদ হলে প্রশাসনের টনক নড়বে?”
এ বিষয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্ত সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যেই চলাফেরা করছে, নিয়মিত হুমকি দিচ্ছে এবং অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। এতে ভুক্তভোগীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের নীরবতা প্রশাসনিক ব্যর্থতার পাশাপাশি অপরাধীদের প্রশ্রয় দেওয়ার শামিল। তারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা না নিলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটবে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে অপরাধীদের সুরক্ষা দেওয়া হলে আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ হয় এবং সাধারণ মানুষের রাষ্ট্রের ওপর আস্থা ভেঙে পড়ে।
এ বিষয়ে প্রশাসনের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ভুক্তভোগীরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন—অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচির পথে যেতে বাধ্য হবেন।