Dhaka 8:32 pm, Friday, 6 February 2026

রোহিঙ্গাদের জন্য ১০ লাখ ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি নরওয়ের

অগ্নিশিখা অনলাইন
  • Update Time : 09:03:09 pm, Sunday, 1 February 2026
  • / 45 Time View

ফাইল ছবি

৬০

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার সহায়তায় ১০ লাখ মার্কিন ডলার প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে নরওয়ে। এটি বৈশ্বিক অর্থায়ন হ্রাসের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ মানবিক সহায়তা ও সুরক্ষা সেবা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই অনুদান ইউএনএইচসিআর-এর বৈশ্বিক বাজেটে নরওয়ের ২০২৫-২০২৬ সহায়তার অংশ। এটি জাতিসংঘের এই সংস্থাকে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা অব্যাহত রাখতে এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ক্রমবর্ধমান মানবিক ও সুরক্ষা চাহিদা মেটাতে সহায়তা করবে।

ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ২০২৫ সালে মানবিক তহবিল কমে যাওয়ায় অগ্রাধিকার নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে এবং প্রয়োজনীয় অনেক সেবা সীমিত করতে হয়েছে। ফলে, ক্যাম্পগুলোতে ঝুঁকি আরো বেড়েছে।

বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআর-এর প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইজেন বলেন, সংকটের নবম বছরে রোহিঙ্গাদের টিকে থাকা ও আশা বজায় রাখতে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, নরওয়ের এই অনুদান শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও জীবিকাভিত্তিক সুযোগ বাড়িয়ে তাদের আত্মবিশ্বাস জোরদার করবে এবং স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদার সঙ্গে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের মনোবল ধরে রাখতে সহায়তা করবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন বলেন, নরওয়ে ও ইউএনএইচসিআর শরণার্থী সুরক্ষায় একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করে, যা ‘অধিকারভিত্তিক, নীতিনিষ্ঠ, বহুপাক্ষিক ও ভবিষ্যতমুখী।’

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের প্রতি সহায়তার অর্থ হলো— মর্যাদা ও অধিকারের ওপর জোর দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে কাজ করা।’

তিনি আরো জানান, মানবিক নীতি মেনে রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুদের সুরক্ষা এবং তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা বাড়াতে ইউএনএইচসিআর-এর কার্যক্রমে সহায়তা দিতে পেরে নরওয়ে গর্বিত।

নরওয়ে সেফ-২ কর্মসূচির মতো যৌথ উদ্যোগেও সহায়তা দিচ্ছে, যার মাধ্যমে শরণার্থীদের জন্য পরিবেশবান্ধব রান্নার জ্বালানি সরবরাহ করা হয়। এতে কাঠের ওপর নির্ভরতা কমে এবং ক্যাম্পের আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য পরিস্থিতির উন্নতি হয়, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য।

ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী ৭১ শতাংশ শরণার্থী বাংলাদেশসহ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে অবস্থান করছে, যা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা সম্প্রদায়ের জন্য টেকসই ও পূর্বানুমানযোগ্য আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ে ইউএনএইচসিআর ও অংশীজনরা ২০২৬ সালের জন্য হালনাগাদ যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা (জেআরপি) চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

২০১৭ সাল থেকে নরওয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য মূল সহায়তা হিসেবে ৫৫.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি অর্থায়ন করেছে, যা শরণার্থীদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে তাদের আশ্রয় দেওয়ার প্রচেষ্টায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা প্রতিফলিত করে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

রোহিঙ্গাদের জন্য ১০ লাখ ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি নরওয়ের

Update Time : 09:03:09 pm, Sunday, 1 February 2026
৬০

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার সহায়তায় ১০ লাখ মার্কিন ডলার প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে নরওয়ে। এটি বৈশ্বিক অর্থায়ন হ্রাসের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ মানবিক সহায়তা ও সুরক্ষা সেবা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।

আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই অনুদান ইউএনএইচসিআর-এর বৈশ্বিক বাজেটে নরওয়ের ২০২৫-২০২৬ সহায়তার অংশ। এটি জাতিসংঘের এই সংস্থাকে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা অব্যাহত রাখতে এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ক্রমবর্ধমান মানবিক ও সুরক্ষা চাহিদা মেটাতে সহায়তা করবে।

ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ২০২৫ সালে মানবিক তহবিল কমে যাওয়ায় অগ্রাধিকার নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে এবং প্রয়োজনীয় অনেক সেবা সীমিত করতে হয়েছে। ফলে, ক্যাম্পগুলোতে ঝুঁকি আরো বেড়েছে।

বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআর-এর প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইজেন বলেন, সংকটের নবম বছরে রোহিঙ্গাদের টিকে থাকা ও আশা বজায় রাখতে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, নরওয়ের এই অনুদান শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও জীবিকাভিত্তিক সুযোগ বাড়িয়ে তাদের আত্মবিশ্বাস জোরদার করবে এবং স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদার সঙ্গে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের মনোবল ধরে রাখতে সহায়তা করবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন বলেন, নরওয়ে ও ইউএনএইচসিআর শরণার্থী সুরক্ষায় একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করে, যা ‘অধিকারভিত্তিক, নীতিনিষ্ঠ, বহুপাক্ষিক ও ভবিষ্যতমুখী।’

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের প্রতি সহায়তার অর্থ হলো— মর্যাদা ও অধিকারের ওপর জোর দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে কাজ করা।’

তিনি আরো জানান, মানবিক নীতি মেনে রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুদের সুরক্ষা এবং তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা বাড়াতে ইউএনএইচসিআর-এর কার্যক্রমে সহায়তা দিতে পেরে নরওয়ে গর্বিত।

নরওয়ে সেফ-২ কর্মসূচির মতো যৌথ উদ্যোগেও সহায়তা দিচ্ছে, যার মাধ্যমে শরণার্থীদের জন্য পরিবেশবান্ধব রান্নার জ্বালানি সরবরাহ করা হয়। এতে কাঠের ওপর নির্ভরতা কমে এবং ক্যাম্পের আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ, নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য পরিস্থিতির উন্নতি হয়, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য।

ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী ৭১ শতাংশ শরণার্থী বাংলাদেশসহ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে অবস্থান করছে, যা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা সম্প্রদায়ের জন্য টেকসই ও পূর্বানুমানযোগ্য আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ে ইউএনএইচসিআর ও অংশীজনরা ২০২৬ সালের জন্য হালনাগাদ যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা (জেআরপি) চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

২০১৭ সাল থেকে নরওয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য মূল সহায়তা হিসেবে ৫৫.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি অর্থায়ন করেছে, যা শরণার্থীদের নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে তাদের আশ্রয় দেওয়ার প্রচেষ্টায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা প্রতিফলিত করে।