Dhaka 1:02 pm, Sunday, 1 February 2026
পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ

শ্রীমঙ্গলে রিসোর্টে হামলা, লুটপাট ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
  • Update Time : 10:15:36 pm, Saturday, 31 January 2026
  • / 42 Time View
৫৬

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে রিসোর্টে হামলা ভাংচুর, লুটপাট ও এক নারী উদ্দোক্তার শ্লীলতাহানি এবং রিসোর্টের মালিক-কর্মচারীদের মারপিট করে বের দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি ২০২৬) বেলা ১২টায় এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন ওই রিসোর্টের অংশীদার, নারী উদ্যেক্তা ও ঢাকার মহাখালী নিবাসী মোছা. লাবনী ইয়াছমিন।

  • সংবাদ সম্মেলনে লাবনী ইয়াছমিন জানান, গত ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রিসোর্ট ব্যবসা পরিচালনার জন্য স্বামীর সাথে রিসোর্ট ব্যবসার জন্য শ্রীমঙ্গলের মোহাজিরাবাদ এলাকার আওয়ামীলীগ নেতা ইউসুফ খা’র কাছ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা সাব্যস্ত করে ৮৬ শতাংশ জমি ২০ বছরের জন্য লীজ নেয়। প্রতি ৫ বছর পর পর লীজের টাকা পরিশোধ করার শর্ত রেখে একটি চুক্তিও সম্পাদিত হয়। এরপর প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ‘অরণ্যবাস ইকো রিসোর্ট’ নামে একটি রিসোর্ট তৈরি করে পর্যটকদের ভাড়া দিয়ে ব্যবসা করছিলেন। তবে তৃতীয় দফার ১০ লক্ষ টাকার মধ্যে নির্ধারিত সময়ের ২ মাস পর স্থানীয় লোকজনদের মাধ্যমে ৬ লক্ষ টাকা ৫০ হাজার টাকা জরিামসানাসহ পরিশোধ করা হয়। কিন্তু বাকি ৪ লক্ষ টাকা পরিশোধ করতে গেলে ভুমি মালিক শর্ত ভঙ্গের অজুহাতে টাকা নিতে অস্বীকার করে রিসোর্ট খালি করে দিতে চাপ সৃষ্টি করে। এ নিয়ে গত ২৬ নভেম্বর ভুমি মালিক ইউসুফ খা, রাজেস, মানুনসহ লোকজন নিয়ে রিসোর্টে গিয়ে রিসোর্ট খালি করে দেয়ার জন্য চাপ দেয়। এতে অস্বীকার করলে রিসোর্টে হামলা ভাংচুর ও মারপিট করে মালিক লাবনী ইয়াছমিন ও তার স্বামীকে জোর করে রিসোর্ট থেকে বের করে দেয়। এ নিয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় অভিযোগ করলে পুলিশের সহায়তায় তারা রিসোর্ট ফিরে পায়। এ নিয়ে তৎকালীন ওসি আমিনুল ইসলাম ও স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেনের মাধ্যমে কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে গেলে ইউসুফ খা টাকা না নিয়ে রিসোর্ট খালি করার দাবী করে। গত ২৪ জানুয়ারী শনিবার পুলিশ থানা থেকে ফোন করে রিসোর্টের অংশীদার স্বামী কামরুজামানকে থানায় ডেকে নেয়। পরে তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে মৌলভীবাজার আদালতে পাঠায়। আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

লাবণী ইয়াছমিন বলেন, স্বামীকে জেলে পাঠানোর পর তিনি জানতে পারেন জমির মাালিক তাদের দুজনকে আসামী করে একটি মামলা করেছে। পরদিন তারা জামিনে মুক্ত হন।

লাবনী অভিযোগ করেন, গত ২৯ জানুয়ারী সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জমির মালিক ইউসুফ খা ২৮-৩০ জন লোক নিয়ে ফের রিসোর্টে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়। এসময় আমার জামা ধরে টানা হেচরা করে মাটিতে ফেলে পেটে ও শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে লাথি কিল ঘুষি, শ্লীলতাহানি ও রিসোর্টের স্টাফ সিয়ামকে বেধরক মারপিট করে আহত করে’। হামলাকরীরা রিসোর্ট থেকে ৫ লক্ষ টাকা ও জরুরী কাগজ পত্রও ছিনিয়ে নেয়’। ‘পরে আমাদেরকে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে রিসোর্ট থেকে জোর করে বের করে দেয়। এরপর ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে সাহায্য চাইলে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ এর নির্দেশানা অনুস্বরণ করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়ে থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করি। কিন্তু অদ্যাবধি থানা পুলিশ অভিযোগ রেকর্ড না করে তালবাহানা করতে থাকে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেনি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

একদিকে আইনি সহায়তা না পাওয়া- অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের করা অভিযোগ অস্বাভাবিক দ্রুততার সাথে আমলে নিয়ে স্বামীকে জেলে নেয়ায় শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন লাবনী।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে লাবণী বলেন, রিসোর্টে প্রায় ৬০ লাখ টাকার বিনিয়োগ হারিয়ে তিনদিন ধরে এক কাপড়ে তারা বিচার চেয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন। থানা পুলিশের সহায়তা না পেয়ে, এএসপি সার্কেল থেকে শুরু করে এসপি, ইউএনও পর্যন্ত সহায়তা চেয়েও কারো কোন সহায়তা পাইনি।

জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল থানার ওসি শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, ‘মারধরের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তবে একই সাথে রিসোর্ট মালিকানার বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার, আদালত ফায়সালা দেবে’।

জমি মালিক ইউসুফ খা আওয়ামীলীগ করার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার কাছে কাগজপত্র আছে। আদালতে-থানায় মামলা দিছি, কোর্ট এর সমাধান দিবে’।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ

শ্রীমঙ্গলে রিসোর্টে হামলা, লুটপাট ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

Update Time : 10:15:36 pm, Saturday, 31 January 2026
৫৬

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে রিসোর্টে হামলা ভাংচুর, লুটপাট ও এক নারী উদ্দোক্তার শ্লীলতাহানি এবং রিসোর্টের মালিক-কর্মচারীদের মারপিট করে বের দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি ২০২৬) বেলা ১২টায় এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন ওই রিসোর্টের অংশীদার, নারী উদ্যেক্তা ও ঢাকার মহাখালী নিবাসী মোছা. লাবনী ইয়াছমিন।

  • সংবাদ সম্মেলনে লাবনী ইয়াছমিন জানান, গত ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রিসোর্ট ব্যবসা পরিচালনার জন্য স্বামীর সাথে রিসোর্ট ব্যবসার জন্য শ্রীমঙ্গলের মোহাজিরাবাদ এলাকার আওয়ামীলীগ নেতা ইউসুফ খা’র কাছ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা সাব্যস্ত করে ৮৬ শতাংশ জমি ২০ বছরের জন্য লীজ নেয়। প্রতি ৫ বছর পর পর লীজের টাকা পরিশোধ করার শর্ত রেখে একটি চুক্তিও সম্পাদিত হয়। এরপর প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ‘অরণ্যবাস ইকো রিসোর্ট’ নামে একটি রিসোর্ট তৈরি করে পর্যটকদের ভাড়া দিয়ে ব্যবসা করছিলেন। তবে তৃতীয় দফার ১০ লক্ষ টাকার মধ্যে নির্ধারিত সময়ের ২ মাস পর স্থানীয় লোকজনদের মাধ্যমে ৬ লক্ষ টাকা ৫০ হাজার টাকা জরিামসানাসহ পরিশোধ করা হয়। কিন্তু বাকি ৪ লক্ষ টাকা পরিশোধ করতে গেলে ভুমি মালিক শর্ত ভঙ্গের অজুহাতে টাকা নিতে অস্বীকার করে রিসোর্ট খালি করে দিতে চাপ সৃষ্টি করে। এ নিয়ে গত ২৬ নভেম্বর ভুমি মালিক ইউসুফ খা, রাজেস, মানুনসহ লোকজন নিয়ে রিসোর্টে গিয়ে রিসোর্ট খালি করে দেয়ার জন্য চাপ দেয়। এতে অস্বীকার করলে রিসোর্টে হামলা ভাংচুর ও মারপিট করে মালিক লাবনী ইয়াছমিন ও তার স্বামীকে জোর করে রিসোর্ট থেকে বের করে দেয়। এ নিয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় অভিযোগ করলে পুলিশের সহায়তায় তারা রিসোর্ট ফিরে পায়। এ নিয়ে তৎকালীন ওসি আমিনুল ইসলাম ও স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেনের মাধ্যমে কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে গেলে ইউসুফ খা টাকা না নিয়ে রিসোর্ট খালি করার দাবী করে। গত ২৪ জানুয়ারী শনিবার পুলিশ থানা থেকে ফোন করে রিসোর্টের অংশীদার স্বামী কামরুজামানকে থানায় ডেকে নেয়। পরে তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে মৌলভীবাজার আদালতে পাঠায়। আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

লাবণী ইয়াছমিন বলেন, স্বামীকে জেলে পাঠানোর পর তিনি জানতে পারেন জমির মাালিক তাদের দুজনকে আসামী করে একটি মামলা করেছে। পরদিন তারা জামিনে মুক্ত হন।

লাবনী অভিযোগ করেন, গত ২৯ জানুয়ারী সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জমির মালিক ইউসুফ খা ২৮-৩০ জন লোক নিয়ে ফের রিসোর্টে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়। এসময় আমার জামা ধরে টানা হেচরা করে মাটিতে ফেলে পেটে ও শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে লাথি কিল ঘুষি, শ্লীলতাহানি ও রিসোর্টের স্টাফ সিয়ামকে বেধরক মারপিট করে আহত করে’। হামলাকরীরা রিসোর্ট থেকে ৫ লক্ষ টাকা ও জরুরী কাগজ পত্রও ছিনিয়ে নেয়’। ‘পরে আমাদেরকে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে রিসোর্ট থেকে জোর করে বের করে দেয়। এরপর ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে সাহায্য চাইলে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ এর নির্দেশানা অনুস্বরণ করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়ে থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করি। কিন্তু অদ্যাবধি থানা পুলিশ অভিযোগ রেকর্ড না করে তালবাহানা করতে থাকে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেনি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

একদিকে আইনি সহায়তা না পাওয়া- অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের করা অভিযোগ অস্বাভাবিক দ্রুততার সাথে আমলে নিয়ে স্বামীকে জেলে নেয়ায় শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন লাবনী।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে লাবণী বলেন, রিসোর্টে প্রায় ৬০ লাখ টাকার বিনিয়োগ হারিয়ে তিনদিন ধরে এক কাপড়ে তারা বিচার চেয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন। থানা পুলিশের সহায়তা না পেয়ে, এএসপি সার্কেল থেকে শুরু করে এসপি, ইউএনও পর্যন্ত সহায়তা চেয়েও কারো কোন সহায়তা পাইনি।

জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল থানার ওসি শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, ‘মারধরের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তবে একই সাথে রিসোর্ট মালিকানার বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার, আদালত ফায়সালা দেবে’।

জমি মালিক ইউসুফ খা আওয়ামীলীগ করার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার কাছে কাগজপত্র আছে। আদালতে-থানায় মামলা দিছি, কোর্ট এর সমাধান দিবে’।