Dhaka 2:05 am, Saturday, 31 January 2026

চীন-বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব জোরদারে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সঙ্গে প্রতিনিধিদলের বৈঠক

অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : 03:27:44 pm, Friday, 30 January 2026
  • / 27 Time View
৩৭

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে চীন-বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব ফোরামের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বৈঠক করেছেন। গত বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিনিধিদলে চীনের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, বিনিয়োগকারী, বায়োমেডিকেল বিজ্ঞানী, অবকাঠামো ও ডিজিটাল খাতের প্রতিনিধি, আইন বিশেষজ্ঞ এবং শিল্পনেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে সিচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েস্ট চায়না স্কুল অব মেডিসিনের পরিচালক ও খ্যাতনামা বায়োমেডিকেল বিজ্ঞানী সিন-ইউয়ান ফু অধ্যাপক ইউনূসের দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশের শিক্ষাবিদদের সঙ্গে যৌথভাবে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, ‘ওয়ালভ্যাক্স বায়োটেকনোলজি’র জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা অ্যান্ড্রু জিলং ওং এবং ‘ওয়ালভ্যাক্স বায়োটেক (সিঙ্গাপুর)’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউচিং ইয়াও বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণের আগ্রহ ব্যক্ত করেন। ২২টির বেশি দেশে টিকা রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে পিসিভি ও এইচপিভি টিকা উৎপাদনের সম্ভাবনা যাচাই করছে। যুক্তরাজ্য ও ইন্দোনেশিয়াতেও তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

এছাড়া প্রতিনিধিদলে ছিলেন সিঙ্গাপুর রোবোটিকস সোসাইটির সহ-সভাপতি জিনসং ওয়াং, ফোর্ডাল ল ফার্মের চেয়ারম্যান ইউয়ান ফেং, বেইজিং উতং অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লি রান, চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশনের সহ-সভাপতি গাও ঝিপেং, চায়না হুনান কনস্ট্রাকশন ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপের বিনিয়োগ পরিচালক শু তিয়ানঝাও, চায়না সিসিসি ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের সহ-সভাপতি হুয়া জিয়ে, পাওয়ার চায়না ওভারসিজ ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক চেন শুজিয়ান, ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মা শিয়াওইউয়ান এবং ফোরামের মহাসচিব অ্যালেক্স ওয়াং জেকাই।

চীনা প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের তরুণদের মেধা ও সম্ভাবনার প্রশংসা করেন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটালাইজেশন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের কথা জানান।

বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস মাইক্রোক্রেডিট আন্দোলনের সূত্র ধরে চীনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, চীনের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করেছেন এবং পরে চীন নিজস্ব কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

গত বছরের মার্চে চীন সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং তাঁর বই পড়েছেন এবং নীতিগুলো অনুসরণ করেছেন বলে জানিয়েছেন—যা তাঁর জন্য আনন্দের বিষয় ছিল।

শিগগির নতুন সরকার দায়িত্ব নিলেও দুই দেশের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তিনি দায়িত্ব ছাড়বেন, তবে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের চলমান কাজ অব্যাহত থাকতে হবে।

বৈঠকে স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও ডিজিটাল খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান অধ্যাপক ইউনূস। তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে চিকিৎসক-রোগী সংযোগ, চিকিৎসা ইতিহাস সংরক্ষণ এবং সহজে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থার উন্নয়নই লক্ষ্য।
ওষুধ খাতে সামাজিক ব্যবসার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অল্প খরচে উৎপাদিত ওষুধ উচ্চমূল্যে বিক্রি হওয়ার প্রবণতা বদলাতে সামাজিক ব্যবসাভিত্তিক ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা প্রয়োজন।
কোভিড-১৯ মহামারির সময় পেটেন্টমুক্ত টিকার পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থানও স্মরণ করেন তিনি। “মানুষ মারা যাচ্ছিল, অথচ কেউ কেউ লাভ করছিল—এটা লজ্জাজনক,” বলেন প্রধান উপদেষ্টা।

এ সময় উত্তরাঞ্চলে ‘হেলথ সিটি’ গড়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। সেখানে ১ হাজার শয্যার আন্তর্জাতিক হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, গবেষণা কেন্দ্র, টিকা উৎপাদন ও ওষুধ শিল্পসহ সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে প্রতিবেশী ভারত, নেপাল ও ভুটানের নাগরিকরাও উপকৃত হতে পারবেন।

বৈঠক শেষে অধ্যাপক ইউনূস ধারাবাহিক সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য চীনা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

চীন-বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব জোরদারে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সঙ্গে প্রতিনিধিদলের বৈঠক

Update Time : 03:27:44 pm, Friday, 30 January 2026
৩৭

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে চীন-বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব ফোরামের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল বৈঠক করেছেন। গত বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিনিধিদলে চীনের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, বিনিয়োগকারী, বায়োমেডিকেল বিজ্ঞানী, অবকাঠামো ও ডিজিটাল খাতের প্রতিনিধি, আইন বিশেষজ্ঞ এবং শিল্পনেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে সিচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েস্ট চায়না স্কুল অব মেডিসিনের পরিচালক ও খ্যাতনামা বায়োমেডিকেল বিজ্ঞানী সিন-ইউয়ান ফু অধ্যাপক ইউনূসের দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশের শিক্ষাবিদদের সঙ্গে যৌথভাবে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, ‘ওয়ালভ্যাক্স বায়োটেকনোলজি’র জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা অ্যান্ড্রু জিলং ওং এবং ‘ওয়ালভ্যাক্স বায়োটেক (সিঙ্গাপুর)’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউচিং ইয়াও বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণের আগ্রহ ব্যক্ত করেন। ২২টির বেশি দেশে টিকা রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে পিসিভি ও এইচপিভি টিকা উৎপাদনের সম্ভাবনা যাচাই করছে। যুক্তরাজ্য ও ইন্দোনেশিয়াতেও তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

এছাড়া প্রতিনিধিদলে ছিলেন সিঙ্গাপুর রোবোটিকস সোসাইটির সহ-সভাপতি জিনসং ওয়াং, ফোর্ডাল ল ফার্মের চেয়ারম্যান ইউয়ান ফেং, বেইজিং উতং অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লি রান, চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশনের সহ-সভাপতি গাও ঝিপেং, চায়না হুনান কনস্ট্রাকশন ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপের বিনিয়োগ পরিচালক শু তিয়ানঝাও, চায়না সিসিসি ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের সহ-সভাপতি হুয়া জিয়ে, পাওয়ার চায়না ওভারসিজ ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক চেন শুজিয়ান, ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মা শিয়াওইউয়ান এবং ফোরামের মহাসচিব অ্যালেক্স ওয়াং জেকাই।

চীনা প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের তরুণদের মেধা ও সম্ভাবনার প্রশংসা করেন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটালাইজেশন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের কথা জানান।

বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস মাইক্রোক্রেডিট আন্দোলনের সূত্র ধরে চীনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, চীনের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করেছেন এবং পরে চীন নিজস্ব কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

গত বছরের মার্চে চীন সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং তাঁর বই পড়েছেন এবং নীতিগুলো অনুসরণ করেছেন বলে জানিয়েছেন—যা তাঁর জন্য আনন্দের বিষয় ছিল।

শিগগির নতুন সরকার দায়িত্ব নিলেও দুই দেশের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তিনি দায়িত্ব ছাড়বেন, তবে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের চলমান কাজ অব্যাহত থাকতে হবে।

বৈঠকে স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও ডিজিটাল খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান অধ্যাপক ইউনূস। তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে চিকিৎসক-রোগী সংযোগ, চিকিৎসা ইতিহাস সংরক্ষণ এবং সহজে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থার উন্নয়নই লক্ষ্য।
ওষুধ খাতে সামাজিক ব্যবসার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অল্প খরচে উৎপাদিত ওষুধ উচ্চমূল্যে বিক্রি হওয়ার প্রবণতা বদলাতে সামাজিক ব্যবসাভিত্তিক ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা প্রয়োজন।
কোভিড-১৯ মহামারির সময় পেটেন্টমুক্ত টিকার পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থানও স্মরণ করেন তিনি। “মানুষ মারা যাচ্ছিল, অথচ কেউ কেউ লাভ করছিল—এটা লজ্জাজনক,” বলেন প্রধান উপদেষ্টা।

এ সময় উত্তরাঞ্চলে ‘হেলথ সিটি’ গড়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। সেখানে ১ হাজার শয্যার আন্তর্জাতিক হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, গবেষণা কেন্দ্র, টিকা উৎপাদন ও ওষুধ শিল্পসহ সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে প্রতিবেশী ভারত, নেপাল ও ভুটানের নাগরিকরাও উপকৃত হতে পারবেন।

বৈঠক শেষে অধ্যাপক ইউনূস ধারাবাহিক সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য চীনা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।