গণভোটে অংশ নিয়ে ‘হ্যা’ তে সিল দেওয়ার আহবান প্রধান উপদেষ্টার
- Update Time : 09:42:05 pm, Monday, 19 January 2026
- / 24 Time View
প্রত্যাশার রাষ্ট্র গড়ে তোলার জন্য গণভোটে অংশ নিয়ে ‘হ্যাঁ’-তে সিল দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জাতির উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে তিনি এই বার্তা দেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে গণভোটেও অংশ নিন। রাষ্ট্রকে আপনার প্রত্যাশামতো গড়ে তোলার জন্য ‘হ্যাঁ’-তে সিল দিন।’
নতুন বাংলাদেশ গড়ার চাবি এখন আপনার হাতে উল্লেখ করে দেশবাসীর উদ্দেশে প্রফেসর ইউনূস বলেন,‘হ্যাঁ’-তে সিল দিলে নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে যাবে। ‘হ্যাঁ’-তে আপনি নিজে সিল দিন, আপনার পরিচিত সবাইকে সিল দিতে উদ্বুদ্ধ করুন এবং তাদেরকে ভোট কেন্দ্রে নিয়ে আসুন। দেশ পাল্টে দিন’।
প্রধান উপদেষ্টার বার্তা বাংলাদেশ টেলিভিশন সম্প্রচার করে।
জাতির উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান জাতির ইতিহাসে এক অসাধারণ অর্জন। এই অভ্যুত্থান অপ্রত্যাশিতভাবে দেশের জীবনে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ এনে দিয়েছে। এই লক্ষ্য সামনে রেখে ইতোমধ্যে বেশ কিছু সংস্কার করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে এসব উদ্যোগের পাশাপাশি আরও গভীর ও সুদূরপ্রসারী সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সে কারণেই দেশের সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই সনদ বাস্তবায়নের জন্য জনগণের সরাসরি সম্মতি প্রয়োজন, আর সেই উদ্দেশ্যেই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন,‘ গণভোটে অংশ নিন। আপনার সম্মতি দিন।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই এই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়ন থেকে মুক্ত হবে বাংলাদেশ।
বার্তায় তিনি ‘হ্যাঁ’ ভোটের অর্থ ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করবে। সরকার ইচ্ছেমতো সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না; গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য জনগণের সম্মতি নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং সংসদের গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হবেন। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাবে এবং সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়বে।
ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় পার্লামেন্টে একটি উচ্চকক্ষ গঠনের কথাও উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা। পাশাপাশি নাগরিকদের মৌলিক অধিকার আরও সুরক্ষিত করার অঙ্গীকারের কথা জানান তিনি।
জুলাই সনদের অন্যান্য প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে-রাষ্ট্রভাষা বাংলার পাশাপাশি অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর ভাষাও সাংবিধানিক স্বীকৃতি পাবে, দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীকে রাষ্ট্রপতি ইচ্ছেমতো ক্ষমা করতে পারবেন না এবং সব ক্ষমতা কেবল প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকবে না। এ ছাড়া সনদে এ ধরনের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানান তিনি।
দেশ পাল্টে দেওয়ার ডাক দিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ সবাই মিলে দেশ গড়ার কাজে অংশ নেবো।






















