Dhaka 12:13 am, Tuesday, 20 January 2026

আজ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী নানা কর্মসূচিতে জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানকে স্মরণ

অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : 08:46:49 pm, Monday, 19 January 2026
  • / 25 Time View
৩১

আজ ১৯ জানুয়ারি। মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম-এর জন্মবার্ষিকী।

১৯৩৬ সালের এই দিনে বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেশব্যাপী বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করছে।

বর্ণাঢ্য সামরিক জীবন ও মুক্তিযুদ্ধে অনন্য ভূমিকা
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন পেশাদার সেনা কর্মকর্তা। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকাকালীন তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তাঁর কণ্ঠে উচ্চারিত স্বাধীনতার ঘোষণা দেশবাসীকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করে। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তিনি “বীর উত্তম” খেতাবে ভূষিত হন।

রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে অবদান
স্বাধীনতার পরবর্তী অস্থির সময়ে শহীদ জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামো পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, গ্রামভিত্তিক উন্নয়ন, খাল খনন কর্মসূচি, স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের দর্শন এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করেন।

বিএনপি প্রতিষ্ঠা ও রাজনৈতিক দর্শন
১৯৭৮ সালে শহীদ জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর ঘোষিত ১৯ দফা কর্মসূচি সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক অধিকার, অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতিফলন ঘটায়। তিনি রাজনীতিতে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ধারাকে শক্তিশালী করেন।

শহীদ হওয়া ও ইতিহাসে অমরতা
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে একদল বিপথগামী সেনা সদস্যের হাতে তিনি নির্মমভাবে নিহত হন। তবে তাঁর আদর্শ, দেশপ্রেম ও নেতৃত্ব আজও কোটি মানুষের হৃদয়ে অম্লান হয়ে আছে। শহীদ জিয়াউর রহমান শুধু একজন রাষ্ট্রনায়ক নন, তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক।

জন্মবার্ষিকীর কর্মসূচি
আজকের এই দিনে দলীয় ও সামাজিক সংগঠনগুলো তাঁর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কোরআনখানি, দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা ও অসহায়দের মাঝে খাদ্য বিতরণসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে। নেতাকর্মীরা তাঁর আদর্শে দেশ গঠনের শপথ পুনর্ব্যক্ত করছেন।

উপসংহার
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবন ছিল ত্যাগ, সাহস ও দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর জন্মবার্ষিকী শুধু স্মরণ নয়, বরং তাঁর আদর্শকে ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, স্বনির্ভর ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় গ্রহণের দিন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

আজ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী নানা কর্মসূচিতে জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানকে স্মরণ

Update Time : 08:46:49 pm, Monday, 19 January 2026
৩১

আজ ১৯ জানুয়ারি। মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম-এর জন্মবার্ষিকী।

১৯৩৬ সালের এই দিনে বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেশব্যাপী বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করছে।

বর্ণাঢ্য সামরিক জীবন ও মুক্তিযুদ্ধে অনন্য ভূমিকা
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন পেশাদার সেনা কর্মকর্তা। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকাকালীন তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তাঁর কণ্ঠে উচ্চারিত স্বাধীনতার ঘোষণা দেশবাসীকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করে। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তিনি “বীর উত্তম” খেতাবে ভূষিত হন।

রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে অবদান
স্বাধীনতার পরবর্তী অস্থির সময়ে শহীদ জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামো পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, গ্রামভিত্তিক উন্নয়ন, খাল খনন কর্মসূচি, স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের দর্শন এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করেন।

বিএনপি প্রতিষ্ঠা ও রাজনৈতিক দর্শন
১৯৭৮ সালে শহীদ জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর ঘোষিত ১৯ দফা কর্মসূচি সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক অধিকার, অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতিফলন ঘটায়। তিনি রাজনীতিতে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ধারাকে শক্তিশালী করেন।

শহীদ হওয়া ও ইতিহাসে অমরতা
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে একদল বিপথগামী সেনা সদস্যের হাতে তিনি নির্মমভাবে নিহত হন। তবে তাঁর আদর্শ, দেশপ্রেম ও নেতৃত্ব আজও কোটি মানুষের হৃদয়ে অম্লান হয়ে আছে। শহীদ জিয়াউর রহমান শুধু একজন রাষ্ট্রনায়ক নন, তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক।

জন্মবার্ষিকীর কর্মসূচি
আজকের এই দিনে দলীয় ও সামাজিক সংগঠনগুলো তাঁর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কোরআনখানি, দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা ও অসহায়দের মাঝে খাদ্য বিতরণসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে। নেতাকর্মীরা তাঁর আদর্শে দেশ গঠনের শপথ পুনর্ব্যক্ত করছেন।

উপসংহার
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবন ছিল ত্যাগ, সাহস ও দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর জন্মবার্ষিকী শুধু স্মরণ নয়, বরং তাঁর আদর্শকে ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, স্বনির্ভর ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় গ্রহণের দিন।