যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরো কমার ব্যাপারে আশাবাদী বাণিজ্য উপদেষ্টা
- Update Time : 06:42:52 pm, Sunday, 8 February 2026
- / 51 Time View
বাণিজ্য এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, চলমান আলোচনার মাধ্যমে আসন্ন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির আগে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক আরো কমার ব্যাপারে সরকার আশাবাদী।
আজ রোববার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের রপ্তানি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। আমরা আলোচনার মাধ্যমে তা ২০ শতাংশে নামিয়ে এনেছি। বাংলাদেশ এ হার আরো কমানোর চেষ্টা করছে, এর মধ্যে প্রধান রপ্তানি পণ্য পোশাকের ওপর শূন্য শুল্ক নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চলছে।
বোয়িংয়ের কাছে উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাব প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্ভাবনা প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা এবং বাজারে উন্নত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হলে এ সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ৩৭ শতাংশ পাল্টা শুল্কের ফলে সৃষ্ট বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা নিরসন এবং ৬ বিলিয়ন বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর উদ্দেশ্যে সরকার অন্যান্য আমদানি উদারীকরণসহ ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ ক্রয়ের প্রস্তাব করে।
তিনি উল্লেখ করেন, ৮ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির সঙ্গে সরাসরি ৫ থেকে ৭ লাখ জনবলের কর্মসংস্থান জড়িত।
প্রতিবেশী দেশগুলো ইতোমধ্যেই শত শত বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ প্রেক্ষাপটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তার নেটওয়ার্ক ও বহর সম্প্রসারণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে।
তিনি বলেন, সে অনুযায়ী বিমান বোয়িং ও এয়ারবাস উভয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ ক্রয়ের প্রস্তাব গ্রহণ ও পর্যালোচনা শুরু করেছে। প্রাপ্ত প্রস্তাবের ভিত্তিতে বিমানের টেকনো-ফাইন্যান্স কমিটি ১৪টি বোয়িং এয়ারক্রাফট কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং বর্তমানে বোয়িংয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
তিনি আরো জানান, আলোচনায় সফলতা এলে নির্বাচনের আগে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন সংস্কারের বিষয়ে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, সরকার টিকিট সিন্ডিকেশন ও ব্লকিং রোধে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ এবং বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন অধ্যাদেশ জারি করেছে, যার মাধ্যমে টিকিট বিতরণ চ্যানেলগুলোকে লাইসেন্সিং ও জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, কড়া নজরদারির ফলে বিমান ভাড়া কমেছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ঢাকা-জেদ্দা রুটের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে টিকিটের দাম ১ লাখ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছিল, বর্তমানে তা ৫৩ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।
উপদেষ্টা আরো বলেন, হজের বিমান ভাড়া গত মৌসুমের তুলনায় ৫৪ হাজার টাকা কমানো হয়েছে। এ বছর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স চার্টার সার্ভিসের পরিবর্তে নির্ধারিত সৌদিগামী ফ্লাইটে হজযাত্রী পরিবহন করবে, যা আগে খালি ফিরে আসতো।
তিনি আরো বলেন, নতুন ব্যবস্থায় বিমান নির্ধারিত হজ ফ্লাইটে নিয়মিত যাত্রীও বহন করবে। ফলে কম খরচে টিকিট বিক্রি সম্ভব হবে। এর মধ্যে ফিরতি আসনের দাম ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা প্রবাসী শ্রমিকদের আসন্ন ঈদ উৎসবের আগে দেশে ফেরার সুযোগ তৈরি করবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহান বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ বিশেষত শ্রমিকদের যৌক্তিকমূল্যে বিদেশ গমনাগমন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এ মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় আইন ও নীতিমালা সংস্কার করা হয়েছে। তবে, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে এভিয়েশন খাত সংশ্লিষ্ট সংস্কার কার্যক্রমকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিমান বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মূয়ীদ চৌধুরী সিংগাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। ওই প্রেক্ষাপটে তাকে অব্যাহতি দিয়ে বাংলাদেশ বিমান আইন অনুযায়ী প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদনক্রমে এ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনকে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি যুগপৎভাবে চেয়ারম্যান পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর আগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান পদে এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের থেকে যুগপৎভাবে দায়িত্ব পালনের একাধিক নজির রয়েছে।
সচিব বলেন, গত ১ জানুয়ারি এয়ার টিকিটের সিন্ডিকেট, টিকিট ব্লকিং রোধ করতে বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ এবং ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ সংশোধন অধ্যাদেশ, ২০২৬ জারি করা হয়। এর ফলে এয়ার টিকিটের ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেলগুলোকে লাইসেন্সিং ও জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়। টিকিট বিতরণ ব্যবস্থায় কার্যকর নজরদারি কাঠামো প্রবর্তন করায় টিকিটের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা দৃশ্যমান হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) ল্যান্ড সাইড ও এয়ার সাইডের স্থাবর সম্পত্তি ইজারা দেওয়ার জন্য এ যাবৎ অনুসৃত নীতিমালায় বিভিন্ন অসংগতি থাকায় বেসামরিক বিমান চলাচল আইনের অধীনে একটি পূর্ণাঙ্গ বিধিমালা তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। প্রস্তাবিত বিধিমালায় আবেদনের ভিত্তিতে এয়ারসাইডে ইজারা দেওয়ার সুযোগ রহিত করে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এবং নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো প্রকার আপস না করেই ইজারা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া, ইজারার শর্ত প্রতিপালন হচ্ছে কি না, তা দেখভাল করার জন্য মনিটরিং টিম গঠনেরও প্রস্তাব করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বেবিচকের চেয়ারম্যান এবং সদস্যদের সভাপতি করে এ কমিটিগুলো গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ এসব কাজ সম্পাদনের জন্য চেয়ারম্যান, বেবিচককেই ক্ষমতায়িত করা হয়েছে। যদিও বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় বিষয়টি ভুলভাবে এই মর্মে উপস্থাপন করা হচ্ছে যে, ইজারা প্রদানের ক্ষমতা মন্ত্রণালয়ে কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে, যা আদৌ সত্য নয়।
নাসরীন জাহান বলেন, হেলিকপ্টার পরিচালনা লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য আকিজ বশির এভিয়েশন লিমিটেড গত মার্চ মাসে বেবিচকের নির্ধারিত পদ্ধতিতে একটি আবেদন করে। শেখ বশিরউদ্দীন এ প্রতিষ্ঠানটির একজন শেয়ার হোল্ডার মাত্র। তিনি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নন। লাইসেন্সের আবেদনটি এখন বেবিচক থেকে পর্যালোচনাধীন রয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ)-এর মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১ জানুয়ারির অধ্যাদেশে উল্লিখিত ভাড়া-ফাইলিংয়ের শর্ত পূর্ববর্তী নিয়মেই বিদ্যমান ছিল।
সচিব বলেন, বেবিচক কারসাজির মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে টিকিটের মূল্য বৃদ্ধি বা একচেটিয়া কারবারের মতো পরিস্থিতিতে নির্দেশিকা জারি করার ক্ষমতা রাখে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে আইএটিএ-এর সদর দপ্তরে জবাব পাঠানো হয়েছে।



















