Dhaka 11:34 am, Sunday, 1 February 2026

রংপুর-৪ আসনে এনসিপি’র প্রার্থী আখতার হোসেনের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

অগ্নিশিখা অনলাইন
  • Update Time : 08:40:39 pm, Saturday, 31 January 2026
  • / 52 Time View

শনিবার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন এনসিপির সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী আখতার হোসেন।

৬৩

জাতীয় নাগরিক পার্টি’র (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী আখতার হোসেন ১০টি সেক্টরে ৪৯ দফা উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্বলিত তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।

আজ শনিবার বিকেলে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার তিস্তা রেল সেতু এলাকায় তিস্তা নদীর বালুকাময় তীরে খোলা আকাশের নীচে আয়োজিত এক ভিন্নধর্মী সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন।

ইশতেহারে, আখতার হোসেন তার রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) নির্বাচনী এলাকার চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও নারীর উন্নয়ন, শিল্প ও কলকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পরিবেশ সুরক্ষা, ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা সমাধান, মাদক নির্মূল, শিশুদের জন্য বিনোদন কেন্দ্র তৈরি, পর্যটন শিল্পের উন্নয়নসহ ১০টি খাতে ৪৯ দফা পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।

আখতার হোসেন বলেন, ‘নদীর চরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য আমরা একটি পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন করতে চাই।’

প্রতি বছর বন্যার সময় লাগামহীন নদী ভাঙনের কারণে তিস্তা নদীর তীর বিলীন হচ্ছে। এর ফলে তিস্তা নদীর পানিতে কোটি কোটি টাকার বিশাল সম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা তিস্তা ভাঙন সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাই। তিস্তা নদীর গভীরতা এবং নাব্যতা ঠিক করার জন্য খনন করে এবং সারা বছর নদীর গতিপথ দিয়ে পানি প্রবাহিত হয় তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এটি করব।

আমরা তিস্তার উভয় তীরে বাঁধ নির্মাণসহ তিস্তা মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে চাই।

তিনি বলেন, তিস্তা একটি আন্তর্জাতিক নদী। ভারত এই নদীর উজানে একটি বাঁধ নির্মাণ করেছে। বর্ষাকালে যদি তারা হঠাৎ করে বাঁধটি খুলে দেয়, তাহলে নদী তীরবর্তী আমাদের কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

আখতার হোসেন বলেন, আমাদের কৃষকরা যাতে তাদের ফসল কাটতে পারে ও নদীর তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে পারে, তাই ভারতকে বাঁধ খোলার অন্তত তিন দিন আগে আমাদের জানাতে হবে। আমরা তিস্তায় ভারতের সঙ্গে এমন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। একই সঙ্গে, আমরা তিস্তার পানির ন্যায্য অংশ ফিরে পেতে চাই।

এ সময় এনসিপি জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর নয়ন, আলাল উদ্দিন কাদেরী শান্তি, সংগঠক তৌফিক ইসলামসহ দলীয় কর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের প্রার্থী হিসেবে, আখতার হোসেন রংপুর-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা কাউনিয়া এবং পীরগাছা উপজেলা নিয়ে গঠিত, যেখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৯ হাজার ৯০৬ জন।

এই আসনে অন্য সাতজন প্রার্থী হচ্ছেন- বিএনপির মোহাম্মদ এমদাদুল হক ভরসা (ধানের শীষ), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) এর প্রগতি বর্মণ তমা (কাঁচি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আবু সাহমা (রিকশা), বাংলাদেশ কংগ্রেসের উজ্জ্বল চন্দ্র রায় (ডাব), জাতীয় পার্টির আবু নাসের শাহ মো. মাহবুবর রহমান (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জাহিদ হোসেন (হাতপাখা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলম বাসার (হরিণ)।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

রংপুর-৪ আসনে এনসিপি’র প্রার্থী আখতার হোসেনের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

Update Time : 08:40:39 pm, Saturday, 31 January 2026
৬৩

জাতীয় নাগরিক পার্টি’র (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী আখতার হোসেন ১০টি সেক্টরে ৪৯ দফা উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্বলিত তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।

আজ শনিবার বিকেলে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার তিস্তা রেল সেতু এলাকায় তিস্তা নদীর বালুকাময় তীরে খোলা আকাশের নীচে আয়োজিত এক ভিন্নধর্মী সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন।

ইশতেহারে, আখতার হোসেন তার রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) নির্বাচনী এলাকার চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও নারীর উন্নয়ন, শিল্প ও কলকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পরিবেশ সুরক্ষা, ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা সমাধান, মাদক নির্মূল, শিশুদের জন্য বিনোদন কেন্দ্র তৈরি, পর্যটন শিল্পের উন্নয়নসহ ১০টি খাতে ৪৯ দফা পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।

আখতার হোসেন বলেন, ‘নদীর চরাঞ্চলের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য আমরা একটি পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন করতে চাই।’

প্রতি বছর বন্যার সময় লাগামহীন নদী ভাঙনের কারণে তিস্তা নদীর তীর বিলীন হচ্ছে। এর ফলে তিস্তা নদীর পানিতে কোটি কোটি টাকার বিশাল সম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা তিস্তা ভাঙন সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাই। তিস্তা নদীর গভীরতা এবং নাব্যতা ঠিক করার জন্য খনন করে এবং সারা বছর নদীর গতিপথ দিয়ে পানি প্রবাহিত হয় তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এটি করব।

আমরা তিস্তার উভয় তীরে বাঁধ নির্মাণসহ তিস্তা মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে চাই।

তিনি বলেন, তিস্তা একটি আন্তর্জাতিক নদী। ভারত এই নদীর উজানে একটি বাঁধ নির্মাণ করেছে। বর্ষাকালে যদি তারা হঠাৎ করে বাঁধটি খুলে দেয়, তাহলে নদী তীরবর্তী আমাদের কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

আখতার হোসেন বলেন, আমাদের কৃষকরা যাতে তাদের ফসল কাটতে পারে ও নদীর তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে পারে, তাই ভারতকে বাঁধ খোলার অন্তত তিন দিন আগে আমাদের জানাতে হবে। আমরা তিস্তায় ভারতের সঙ্গে এমন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। একই সঙ্গে, আমরা তিস্তার পানির ন্যায্য অংশ ফিরে পেতে চাই।

এ সময় এনসিপি জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর নয়ন, আলাল উদ্দিন কাদেরী শান্তি, সংগঠক তৌফিক ইসলামসহ দলীয় কর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের প্রার্থী হিসেবে, আখতার হোসেন রংপুর-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা কাউনিয়া এবং পীরগাছা উপজেলা নিয়ে গঠিত, যেখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৯ হাজার ৯০৬ জন।

এই আসনে অন্য সাতজন প্রার্থী হচ্ছেন- বিএনপির মোহাম্মদ এমদাদুল হক ভরসা (ধানের শীষ), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) এর প্রগতি বর্মণ তমা (কাঁচি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আবু সাহমা (রিকশা), বাংলাদেশ কংগ্রেসের উজ্জ্বল চন্দ্র রায় (ডাব), জাতীয় পার্টির আবু নাসের শাহ মো. মাহবুবর রহমান (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জাহিদ হোসেন (হাতপাখা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলম বাসার (হরিণ)।