Dhaka 5:02 pm, Wednesday, 28 January 2026

বন্দরের শীর্ষ সন্ত্রাসী সুজন গ্রেফতার, উদ্ধার বিদেশি রিভলভার ও গুলি

‎মো: হারুন মিয়া, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি ‎
  • Update Time : 02:47:06 pm, Wednesday, 28 January 2026
  • / 33 Time View
৩৯


‎নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ২২টি মামলার আসামি সুজনকে একটি বিদেশি রিভলভার ও সাত রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১১। এ সময় তার এক সহযোগীকেও আটক করা হয়।

‎‎মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি ) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে র‍্যাব-১১, সিপিএসসি-এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানাধীন চাঁনপুর গ্রামে আসামির বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করে।

‎র‍্যাবের তথ্য অনুযায়ী, বন্দর ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী সুজন ও তার বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, জমি দখল এবং আধিপত্য বিস্তারসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। নতুন কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে গেলে ঠিকাদার ও মালিকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় ছিল নিয়মিত ঘটনা। চাঁদা না দিলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া এবং মারধরের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

‎এছাড়া শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে পণ্যবাহী ট্রলার ও বাল্কহেড থেকে তার বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত চাঁদা আদায় করত। স্থানীয় ছোট-বড় ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নিয়মিত ‘মাসোহারা’ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। সাধারণ মানুষের পৈতৃক জমি ও ভিটেমাটি জোরপূর্বক দখল করে নামমাত্র মূল্যে লিখে নেওয়া অথবা পেশিশক্তি প্রয়োগ করে উচ্ছেদের ঘটনায় এলাকায় কুখ্যাত হয়ে ওঠে সুজন।

‎আধিপত্য বজায় রাখতে সে প্রায়ই আগ্নেয়াস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবহার করত। তার ছত্রছায়ায় মদনপুর ও বন্দর এলাকায় গড়ে ওঠে গাঁজা, ইয়াবা ও ফেন্সিডিলের একটি বিশাল মাদক নেটওয়ার্ক। এসব অপরাধ কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

‎এই প্রেক্ষাপটে সুজন ও তার সহযোগীদের গ্রেফতারে র‍্যাব-১১ গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। অভিযানে একটি বিদেশি রিভলভার ও সাত রাউন্ড গুলিসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার সহযোগী মো. রুবেল (৩৫), পিতা: মৃত আলী, তাকেও আটক করা হয়।

‎গ্রেফতারকৃত সুজন (২৯), পিতা: কানা মতিন এবং রুবেল—উভয়ের বাড়ি বন্দর থানার চাঁনপুর গ্রামে। র‍্যাব জানায়, সুজনের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় অস্ত্র, ডাকাতি ও হত্যা মামলাসহ অন্তত ২২টি মামলা রয়েছে।

‎গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব-১১।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বন্দরের শীর্ষ সন্ত্রাসী সুজন গ্রেফতার, উদ্ধার বিদেশি রিভলভার ও গুলি

Update Time : 02:47:06 pm, Wednesday, 28 January 2026
৩৯


‎নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ২২টি মামলার আসামি সুজনকে একটি বিদেশি রিভলভার ও সাত রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১১। এ সময় তার এক সহযোগীকেও আটক করা হয়।

‎‎মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি ) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে র‍্যাব-১১, সিপিএসসি-এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানাধীন চাঁনপুর গ্রামে আসামির বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করে।

‎র‍্যাবের তথ্য অনুযায়ী, বন্দর ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী সুজন ও তার বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, জমি দখল এবং আধিপত্য বিস্তারসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। নতুন কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে গেলে ঠিকাদার ও মালিকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় ছিল নিয়মিত ঘটনা। চাঁদা না দিলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া এবং মারধরের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

‎এছাড়া শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে পণ্যবাহী ট্রলার ও বাল্কহেড থেকে তার বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত চাঁদা আদায় করত। স্থানীয় ছোট-বড় ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নিয়মিত ‘মাসোহারা’ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। সাধারণ মানুষের পৈতৃক জমি ও ভিটেমাটি জোরপূর্বক দখল করে নামমাত্র মূল্যে লিখে নেওয়া অথবা পেশিশক্তি প্রয়োগ করে উচ্ছেদের ঘটনায় এলাকায় কুখ্যাত হয়ে ওঠে সুজন।

‎আধিপত্য বজায় রাখতে সে প্রায়ই আগ্নেয়াস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবহার করত। তার ছত্রছায়ায় মদনপুর ও বন্দর এলাকায় গড়ে ওঠে গাঁজা, ইয়াবা ও ফেন্সিডিলের একটি বিশাল মাদক নেটওয়ার্ক। এসব অপরাধ কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

‎এই প্রেক্ষাপটে সুজন ও তার সহযোগীদের গ্রেফতারে র‍্যাব-১১ গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। অভিযানে একটি বিদেশি রিভলভার ও সাত রাউন্ড গুলিসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার সহযোগী মো. রুবেল (৩৫), পিতা: মৃত আলী, তাকেও আটক করা হয়।

‎গ্রেফতারকৃত সুজন (২৯), পিতা: কানা মতিন এবং রুবেল—উভয়ের বাড়ি বন্দর থানার চাঁনপুর গ্রামে। র‍্যাব জানায়, সুজনের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় অস্ত্র, ডাকাতি ও হত্যা মামলাসহ অন্তত ২২টি মামলা রয়েছে।

‎গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব-১১।