Dhaka 8:51 pm, Monday, 26 January 2026

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকারীদের মামলা প্রত্যাহার ও দায়মুক্তির বিধান রেখে অধ্যাদেশ জারি

অগ্নিশিখা অনলাইন
  • Update Time : 06:45:06 pm, Monday, 26 January 2026
  • / 26 Time View

ফাইল ছবি

৩৩

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের আইনি সুরক্ষা প্রদান এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে সরকার।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত গেজেট গতকাল রোববার প্রকাশিত হয়েছে। আজ সোমবার আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

এই অধ্যাদেশ ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ নামে অভিহিত হবে।

অধ্যাদেশে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতাকে ‘গণঅভ্যুত্থানকারী’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিচালিত এই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করা হবে।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, সরকার কর্তৃক প্রত্যয়ন সাপেক্ষে গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত কোনো মামলা বা আইনি কার্যধারা চলমান থাকলে তা পাবলিক প্রসিকিউটরের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করবে। পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অব্যাহতি বা খালাস প্রদান করবে। একইসাথে, ভবিষ্যতে এই সংক্রান্ত কোনো নতুন মামলা দায়েরও বারিত করা হয়েছে।

অধ্যাদেশে ‘রাজনৈতিক প্রতিরোধ’ ও ‘বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার’-এর মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, যদি কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড সংঘটনের অভিযোগ থাকে, তবে তা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করতে হবে। কমিশন তদন্ত করে যদি দেখে যে সংশ্লিষ্ট কার্যটি ‘রাজনৈতিক প্রতিরোধের’ অংশ ছিল, তবে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো মামলা চলবে না। তবে কমিশন চাইলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সরকারকে আদেশ দিতে পারবে।

অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে— কোনো হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক প্রতিরোধের পরিবর্তে ব্যক্তিগত স্বার্থে বা ‘অপরাধমূলক অপব্যবহার’ হিসেবে সংঘটিত হয়েছে, তবে কমিশন সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবে এবং আদালত তা পুলিশ প্রতিবেদন হিসেবে গণ্য করে পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু করবে।

সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এই অধ্যাদেশ জারি করেন।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, যেহেতু বর্তমানে সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় রয়েছে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আশু ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন, সেহেতু এই আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে।

এই অধ্যাদেশটি ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং অন্য যেকোনো আইনের ওপর এটি প্রাধান্য পাবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকারীদের মামলা প্রত্যাহার ও দায়মুক্তির বিধান রেখে অধ্যাদেশ জারি

Update Time : 06:45:06 pm, Monday, 26 January 2026
৩৩

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের আইনি সুরক্ষা প্রদান এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে সরকার।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত গেজেট গতকাল রোববার প্রকাশিত হয়েছে। আজ সোমবার আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

এই অধ্যাদেশ ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ নামে অভিহিত হবে।

অধ্যাদেশে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতাকে ‘গণঅভ্যুত্থানকারী’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিচালিত এই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করা হবে।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, সরকার কর্তৃক প্রত্যয়ন সাপেক্ষে গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত কোনো মামলা বা আইনি কার্যধারা চলমান থাকলে তা পাবলিক প্রসিকিউটরের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করবে। পাশাপাশি অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অব্যাহতি বা খালাস প্রদান করবে। একইসাথে, ভবিষ্যতে এই সংক্রান্ত কোনো নতুন মামলা দায়েরও বারিত করা হয়েছে।

অধ্যাদেশে ‘রাজনৈতিক প্রতিরোধ’ ও ‘বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার’-এর মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, যদি কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড সংঘটনের অভিযোগ থাকে, তবে তা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করতে হবে। কমিশন তদন্ত করে যদি দেখে যে সংশ্লিষ্ট কার্যটি ‘রাজনৈতিক প্রতিরোধের’ অংশ ছিল, তবে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো মামলা চলবে না। তবে কমিশন চাইলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সরকারকে আদেশ দিতে পারবে।

অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে— কোনো হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক প্রতিরোধের পরিবর্তে ব্যক্তিগত স্বার্থে বা ‘অপরাধমূলক অপব্যবহার’ হিসেবে সংঘটিত হয়েছে, তবে কমিশন সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবে এবং আদালত তা পুলিশ প্রতিবেদন হিসেবে গণ্য করে পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু করবে।

সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এই অধ্যাদেশ জারি করেন।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, যেহেতু বর্তমানে সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় রয়েছে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আশু ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন, সেহেতু এই আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে।

এই অধ্যাদেশটি ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং অন্য যেকোনো আইনের ওপর এটি প্রাধান্য পাবে।