Dhaka 6:47 am, Friday, 23 January 2026

সবাই মিলে আগামীর বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলবো: জামায়াত আমির

অগ্নিশিখা অনলাইন
  • Update Time : 11:42:45 pm, Thursday, 22 January 2026
  • / 21 Time View
২৮

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নারী-পুরুষ সবাই মিলে আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মা-বোনদের ইজ্জতের ওপর কোনো আঘাত সহ্য করা হবে না এবং নারীর প্রতি কোনো ধরনের সহিংসতা বরদাশত করা হবে না।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় মিরপুর-১০ আদর্শ স্কুল মাঠে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সমাজে ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হলে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, খুন, ধর্ষণ, ব্যাংক ডাকাতির মতো অপরাধ টিকে থাকতে পারবে না। সমাজের কোনো স্তরে বৈষম্য থাকবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইনসাফভিত্তিক বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে জনগণের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।

নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৫ আসনের বিদ্যমান সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রায় ১০ লক্ষাধিক মানুষের বসবাস হওয়া সত্ত্বেও এই এলাকায় কোনো সরকারি হাসপাতাল নেই, এমনকি উন্নতমানের বেসরকারি হাসপাতালও নেই। নেই কোনো স্নাতক পর্যায়ের কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিটি অলি-গলিতে ড্রেনের দুর্গন্ধে বসবাস করা কষ্টকর হয়ে উঠেছে, গ্যাস সংকট নিত্যদিনের সঙ্গী। জামায়াতে ইসলামী নির্বাচিত হলে এসব মৌলিক সমস্যা সমাধান করে নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

তিনি আরও বলেন, মণিপুর হাইস্কুল একসময় দেশের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলেও বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করে এই প্রতিষ্ঠানকে সেরা তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। ভবিষ্যতে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিশ্বমানের করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিনি আজ জামায়াতের আমির হিসেবে নয়, বরং রিকশা-ভ্যান-ঠেলা চালক, গার্মেন্টস কর্মী, দোকান কর্মচারী ও সাধারণ শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণের সামনে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেন, যারা বৈষম্যের শিকার, তিনি তাদের কণ্ঠস্বর। তিনি ‘জুলাই বিপ্লবীদের’ প্রতিনিধি হিসেবেও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, একটি হত্যাকাণ্ডে একজন হাদি শহীদ হলেও ১৮ কোটি মানুষের হৃদয়ে হাজারো হাদি জন্ম নিয়েছে। হাদির রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। বাংলাদেশে আর কোনো আধিপত্যবাদী বা ফ্যাসিবাদী শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। ফ্যাসিবাদ নতুন রূপে ফিরে এলে ৫ আগস্টের মতোই জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

ভোটাধিকার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, যারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে তারা ভোট ডাকাত। বিগত তিনটি নির্বাচনে এমন মানুষও আছে যারা জীবনে একবারও ভোট দিতে পারেনি। এই পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে তিনি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ১০ দলীয় জোট নির্বাচিত হলে এই বিজয় কোনো পরিবার বা দলের নয়-এই বিজয় হবে জনগণের। জনগণের সরকার গঠিত হবে।

যুব ও তরুণদের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের পেশাগত ও নৈতিক শিক্ষা দিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। খয়রাত নয়, দক্ষতার মাধ্যমে তাদের হাতে বাংলাদেশ তুলে দেওয়া হবে।

জনসভায় মঞ্চে উপস্থিত জাতীয় নাগরিক পার্টির(এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী নাহিদ ইসলামের হাতে সমন্বিত শাপলা কলি ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন ডা. শফিকুর রহমান। একইভাবে ঢাকা-১২, ১৩, ১৪, ১৬ ও ১৭ আসনের প্রার্থীদের প্রতীক প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত জনতা হাত তুলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, ডা. শফিকুর রহমান শুধু জামায়াতের আমির নন, তিনি জুলাই যোদ্ধাদের প্রেরণা ও মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন সরকার পরিবর্তনের নয়, দেশ পরিবর্তনের নির্বাচন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা-১৫ আসন কমিটির পরিচালক আব্দুর রহমান মুসা এবং সঞ্চালনা করেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম।

জামায়াত ও ১০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় নেতারাও জনসভায় বক্তব্য রাখেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

সবাই মিলে আগামীর বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলবো: জামায়াত আমির

Update Time : 11:42:45 pm, Thursday, 22 January 2026
২৮

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নারী-পুরুষ সবাই মিলে আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মা-বোনদের ইজ্জতের ওপর কোনো আঘাত সহ্য করা হবে না এবং নারীর প্রতি কোনো ধরনের সহিংসতা বরদাশত করা হবে না।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় মিরপুর-১০ আদর্শ স্কুল মাঠে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সমাজে ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হলে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, খুন, ধর্ষণ, ব্যাংক ডাকাতির মতো অপরাধ টিকে থাকতে পারবে না। সমাজের কোনো স্তরে বৈষম্য থাকবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইনসাফভিত্তিক বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে জনগণের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।

নিজের নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৫ আসনের বিদ্যমান সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রায় ১০ লক্ষাধিক মানুষের বসবাস হওয়া সত্ত্বেও এই এলাকায় কোনো সরকারি হাসপাতাল নেই, এমনকি উন্নতমানের বেসরকারি হাসপাতালও নেই। নেই কোনো স্নাতক পর্যায়ের কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিটি অলি-গলিতে ড্রেনের দুর্গন্ধে বসবাস করা কষ্টকর হয়ে উঠেছে, গ্যাস সংকট নিত্যদিনের সঙ্গী। জামায়াতে ইসলামী নির্বাচিত হলে এসব মৌলিক সমস্যা সমাধান করে নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

তিনি আরও বলেন, মণিপুর হাইস্কুল একসময় দেশের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলেও বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করে এই প্রতিষ্ঠানকে সেরা তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। ভবিষ্যতে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিশ্বমানের করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিনি আজ জামায়াতের আমির হিসেবে নয়, বরং রিকশা-ভ্যান-ঠেলা চালক, গার্মেন্টস কর্মী, দোকান কর্মচারী ও সাধারণ শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণের সামনে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেন, যারা বৈষম্যের শিকার, তিনি তাদের কণ্ঠস্বর। তিনি ‘জুলাই বিপ্লবীদের’ প্রতিনিধি হিসেবেও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, একটি হত্যাকাণ্ডে একজন হাদি শহীদ হলেও ১৮ কোটি মানুষের হৃদয়ে হাজারো হাদি জন্ম নিয়েছে। হাদির রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। বাংলাদেশে আর কোনো আধিপত্যবাদী বা ফ্যাসিবাদী শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। ফ্যাসিবাদ নতুন রূপে ফিরে এলে ৫ আগস্টের মতোই জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

ভোটাধিকার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, যারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে তারা ভোট ডাকাত। বিগত তিনটি নির্বাচনে এমন মানুষও আছে যারা জীবনে একবারও ভোট দিতে পারেনি। এই পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে তিনি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ১০ দলীয় জোট নির্বাচিত হলে এই বিজয় কোনো পরিবার বা দলের নয়-এই বিজয় হবে জনগণের। জনগণের সরকার গঠিত হবে।

যুব ও তরুণদের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের পেশাগত ও নৈতিক শিক্ষা দিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। খয়রাত নয়, দক্ষতার মাধ্যমে তাদের হাতে বাংলাদেশ তুলে দেওয়া হবে।

জনসভায় মঞ্চে উপস্থিত জাতীয় নাগরিক পার্টির(এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী নাহিদ ইসলামের হাতে সমন্বিত শাপলা কলি ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন ডা. শফিকুর রহমান। একইভাবে ঢাকা-১২, ১৩, ১৪, ১৬ ও ১৭ আসনের প্রার্থীদের প্রতীক প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত জনতা হাত তুলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, ডা. শফিকুর রহমান শুধু জামায়াতের আমির নন, তিনি জুলাই যোদ্ধাদের প্রেরণা ও মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন সরকার পরিবর্তনের নয়, দেশ পরিবর্তনের নির্বাচন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা-১৫ আসন কমিটির পরিচালক আব্দুর রহমান মুসা এবং সঞ্চালনা করেন ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম।

জামায়াত ও ১০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় নেতারাও জনসভায় বক্তব্য রাখেন।