শরীয়তপুরে চাঞ্চল্যকর শিশু নিবির হত্যা মামলায় দুইজনের মৃত্যুদণ্ড
- Update Time : 10:31:28 pm, Tuesday, 13 January 2026
- / 17 Time View
শরীয়তপুর সদর উপজেলার খিলগাঁও এলাকায় আলোচিত শিশু নিবির খান হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং একজনকে ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, শরীয়তপুর।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারী) দুপুর ১টায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—সিয়াম সরদার ও শাকিল গাজী। অপর আসামি কিশোর তুহিন গাজীকে তিনটি ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে শিশু আইনে পর্যায়ক্রমে ৫ বছর, ৬ বছর ও ১০ বছরসহ মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৩১ জুলাই বিকেল ৪টার দিকে শরীয়তপুর সদর উপজেলার খিলগাঁও গ্রামের মনির খানের ছেলে, শিশুকানন কিন্ডারগার্টেন স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র নিবির খান (১১)–কে অপহরণ করে আসামিরা।
অপহরণের পর তারা নিবিরের মা নিপা আক্তারের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণ না পেয়ে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ ট্রাকের সঙ্গে বেঁধে টেনে হেঁচড়ে আলী হোসেন কাজীর বাড়ির পেছনে একটি ইটভাটার পাশে গর্ত করে বালিচাপা দিয়ে লাশ গোপন করে রাখা হয়।
এ ঘটনায় পরদিন নিহত নিবিরের দাদা মমিন আলী খান বাদী হয়ে পালং মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পালং মডেল থানার পুলিশ মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে আসামিদের শনাক্ত করে এবং পর্যায়ক্রমে সিয়াম সরদার, শাকিল গাজী ও তুহিন গাজীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। আসামিদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আলী হোসেন কাজীর বাড়ির পেছনের একটি ইটভাটার গর্ত থেকে নিবিরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত আজ এ রায় ঘোষণা করেন। সিয়াম সরদার ও শাকিল গাজীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের মৃত্যুদণ্ড এবং প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে নিহত শিশু নিবিরের মা নিপা আক্তার বলেন,“এই রায়ে আমি খুশি হয়েছি। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে রায় কার্যকরের দাবি জানাচ্ছি।”
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনাকারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান বলেন,
“এই রায়ে আমরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট। দ্রুত রায় কার্যকর হলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে।”অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তৌহিদ হোসেন বলেন,
“এই মামলার রায়ে আমাদের আসামিরা ন্যায়বিচার পাননি। তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।”





















