Dhaka 9:00 pm, Thursday, 8 January 2026

যুক্তরাষ্ট্র থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে এলো ৫৭ হাজার ৮৫৫ মেট্রিক টন ভুট্টা

অনলাইন ডেস্ক
  • Update Time : 06:21:29 pm, Wednesday, 7 January 2026
  • / 70 Time View
৭৮

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২০১৮ সালের পর প্রথমবারের মত বাংলাদেশে আসা ভুট্টার চালান খালাস করা হচ্ছে।

চালানটিতে ২০২৫-২৬ ফসল মৌসুমে নর্থ ডাকোটা, সাউথ ডাকোটা ও মিনেসোটায় উৎপাদিত ৫৭ হাজার ৮৫৫ টন হলুদ ভুট্টা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ভ্যাঙ্কুভার বন্দর থেকে জাহাজে পাঠানো হয়েছে। গত আট বছরে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের পশুখাদ্য প্রস্তুতকারকদের প্রাণী পুষ্টির একটি নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চমানের ভুট্টা ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছে এই সরবরাহ।

আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম নগরীর সদরঘাটে চট্টগ্রাম বন্দরের জলযান লাইসেন্স কার্যালয়ের পার্শ্ববর্তী কর্ণফুলী নদীর ঘাটে এই চালানের ভুট্টা খালাস শুরু হয়। ভুট্টার এই চালানকে স্বাগত জানায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস।

এ উপলক্ষে ঘাটে আয়োজিত ‘দ্যা রিটার্ন অব ইউএস কর্ন টু বাংলাদেশ’ শিরোনামে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যাটাশে এরিন কোভার্ট সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের তিনটি প্রধান পশুখাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান-নাহার অ্যাগ্রো গ্রুপ, প্যারাগন গ্রুপ এবং নারিশ পোলট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেডের ক্রেতাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি জোট।

এরিন কোভার্ট অনুষ্ঠানে বলেন, “এখানে এসে আমি খুব খুশি। ঐতিহাসিক দিন আজ। বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে আমরা কাজ করছি। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে কাজ করে চলেছি।

“এটা ভুট্টার প্রথম শিপমেন্ট। ২০২৫-২৬ ফসল মৌসুমে এসব ভুট্টা উৎপাদিত হয়েছে। দীর্ঘ ৮ বছর পর আবার ভুট্টা এল বাংলাদেশে। প্রতি বছর ২ মিলিয়ন মেট্রিক টন ভুট্টা আসবে। ভুট্টার মান ও সরবরাহ ব্যবস্থার বিষয়ে আমরা নিশ্চয়তা দিচ্ছি।”

যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসব ভুট্টা রপ্তানি করেছে দেশটির অন্যতম প্রধান শস্য রপ্তানিকারক কোম্পানি ইউনাইটেড গ্রেইন করপোরেশন (ইউজিসি)।

বাংলাদেশের পশুখাদ্য উৎপাদনকারী তিন কোম্পানি নাহার অ্যাগ্রো গ্রুপ (১০ হাজার টন), প্যারাগন গ্রুপ (১৯ হাজার টন) এবং নারিশ পোলট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেড (২৯ হাজার টন) ভুট্টা আমদানি করেছে।

এমভি বেলটোকিও নামের একটি জাহাজে করে এসব ভুট্টা ৩১ ডিসেম্বর কুতুবদিয়ায় পৌঁছায়। সেখান থেকে ছোট আকারের (লাইটার) জাহাজে করে চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, নোয়াপাড়ার বিভিন্ন গন্তব্যে রওনা হয় এসব ভুট্টা।

বুধবারের অনুষ্ঠানে যে লাইটার থেকে ভুট্টার চালান খালাস উদ্বোধন করা হয়, সেখানে আড়াই হাজার টনের মত ভুট্টা আছে।

অনুষ্ঠানে নাহার অ্যাগ্রোর এমডি রাকিবুর রহমান টুটুল বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র থেকে এনে আমরা ভুট্টার চাহিদা মেটাতে পারব। বাংলাদেশে চাহিদার ৩০ শতাংশ আমাদের দেশীয় ভুট্টার মাধ্যমে পূরণ হয়। বাকিটা আমদানি করতে হয়।

তিনি বলেন, “তিন মাস আগে আমেরিকা থেকে কিনতে হয়। আনতে সময় লাগে ৪৫ দিন। বাংলাদেশের মানুষ দ্রুত পেতে চায় বলে আগে ভারত, ব্রাজিল থেকে আনা হত। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের লোডিং পয়েন্টে হেলপ করেছে, যেন দেরি না হয়। এই চালান জাহাজে আসতে ৪৬ দিন লেগেছে।”

তিনি আরও বলেন, “দাম প্রায় কাছাকাছি। ব্রাজিল থেকে আনলে প্রায় একই দাম। যেহেতু সম্পর্ক এখন বৃদ্ধি পাচ্ছে, ১০-১৫ দিন বেশি সময় লাগলেও আমরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনব। প্রতি টনের দাম পড়েছে ২৪৬ ডলার।”

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

যুক্তরাষ্ট্র থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে এলো ৫৭ হাজার ৮৫৫ মেট্রিক টন ভুট্টা

Update Time : 06:21:29 pm, Wednesday, 7 January 2026
৭৮

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২০১৮ সালের পর প্রথমবারের মত বাংলাদেশে আসা ভুট্টার চালান খালাস করা হচ্ছে।

চালানটিতে ২০২৫-২৬ ফসল মৌসুমে নর্থ ডাকোটা, সাউথ ডাকোটা ও মিনেসোটায় উৎপাদিত ৫৭ হাজার ৮৫৫ টন হলুদ ভুট্টা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ভ্যাঙ্কুভার বন্দর থেকে জাহাজে পাঠানো হয়েছে। গত আট বছরে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের পশুখাদ্য প্রস্তুতকারকদের প্রাণী পুষ্টির একটি নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চমানের ভুট্টা ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছে এই সরবরাহ।

আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম নগরীর সদরঘাটে চট্টগ্রাম বন্দরের জলযান লাইসেন্স কার্যালয়ের পার্শ্ববর্তী কর্ণফুলী নদীর ঘাটে এই চালানের ভুট্টা খালাস শুরু হয়। ভুট্টার এই চালানকে স্বাগত জানায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস।

এ উপলক্ষে ঘাটে আয়োজিত ‘দ্যা রিটার্ন অব ইউএস কর্ন টু বাংলাদেশ’ শিরোনামে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যাটাশে এরিন কোভার্ট সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের তিনটি প্রধান পশুখাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান-নাহার অ্যাগ্রো গ্রুপ, প্যারাগন গ্রুপ এবং নারিশ পোলট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেডের ক্রেতাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি জোট।

এরিন কোভার্ট অনুষ্ঠানে বলেন, “এখানে এসে আমি খুব খুশি। ঐতিহাসিক দিন আজ। বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে আমরা কাজ করছি। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে কাজ করে চলেছি।

“এটা ভুট্টার প্রথম শিপমেন্ট। ২০২৫-২৬ ফসল মৌসুমে এসব ভুট্টা উৎপাদিত হয়েছে। দীর্ঘ ৮ বছর পর আবার ভুট্টা এল বাংলাদেশে। প্রতি বছর ২ মিলিয়ন মেট্রিক টন ভুট্টা আসবে। ভুট্টার মান ও সরবরাহ ব্যবস্থার বিষয়ে আমরা নিশ্চয়তা দিচ্ছি।”

যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসব ভুট্টা রপ্তানি করেছে দেশটির অন্যতম প্রধান শস্য রপ্তানিকারক কোম্পানি ইউনাইটেড গ্রেইন করপোরেশন (ইউজিসি)।

বাংলাদেশের পশুখাদ্য উৎপাদনকারী তিন কোম্পানি নাহার অ্যাগ্রো গ্রুপ (১০ হাজার টন), প্যারাগন গ্রুপ (১৯ হাজার টন) এবং নারিশ পোলট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেড (২৯ হাজার টন) ভুট্টা আমদানি করেছে।

এমভি বেলটোকিও নামের একটি জাহাজে করে এসব ভুট্টা ৩১ ডিসেম্বর কুতুবদিয়ায় পৌঁছায়। সেখান থেকে ছোট আকারের (লাইটার) জাহাজে করে চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, নোয়াপাড়ার বিভিন্ন গন্তব্যে রওনা হয় এসব ভুট্টা।

বুধবারের অনুষ্ঠানে যে লাইটার থেকে ভুট্টার চালান খালাস উদ্বোধন করা হয়, সেখানে আড়াই হাজার টনের মত ভুট্টা আছে।

অনুষ্ঠানে নাহার অ্যাগ্রোর এমডি রাকিবুর রহমান টুটুল বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র থেকে এনে আমরা ভুট্টার চাহিদা মেটাতে পারব। বাংলাদেশে চাহিদার ৩০ শতাংশ আমাদের দেশীয় ভুট্টার মাধ্যমে পূরণ হয়। বাকিটা আমদানি করতে হয়।

তিনি বলেন, “তিন মাস আগে আমেরিকা থেকে কিনতে হয়। আনতে সময় লাগে ৪৫ দিন। বাংলাদেশের মানুষ দ্রুত পেতে চায় বলে আগে ভারত, ব্রাজিল থেকে আনা হত। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের লোডিং পয়েন্টে হেলপ করেছে, যেন দেরি না হয়। এই চালান জাহাজে আসতে ৪৬ দিন লেগেছে।”

তিনি আরও বলেন, “দাম প্রায় কাছাকাছি। ব্রাজিল থেকে আনলে প্রায় একই দাম। যেহেতু সম্পর্ক এখন বৃদ্ধি পাচ্ছে, ১০-১৫ দিন বেশি সময় লাগলেও আমরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনব। প্রতি টনের দাম পড়েছে ২৪৬ ডলার।”