বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও ৮টি চোরাই গরু উদ্ধার
কুমিল্লায় আন্তঃজেলা গরু ডাকাত চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার
- Update Time : 10:30:21 pm, Monday, 5 January 2026
- / 51 Time View
কুমিল্লার প্রান্তিক এলাকাসহ আশপাশের কয়েকটি জেলায় সংঘটিত ধারাবাহিক গরু চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় জড়িত আন্তঃজেলা গরু ডাকাত চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র, ডাকাতির সরঞ্জাম, একটি পিকআপ ভ্যান এবং ৮টি চোরাই গাভী গরু উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সম্প্রতি কুমিল্লা ও আশপাশের জেলায় গরু চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় একই ধরনের কৌশল লক্ষ্য করা যায়। এসব অপরাধ নিবারণের লক্ষ্যে কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপারের নির্দেশনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে জেলার প্রতিটি থানা এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, চেকপোস্ট স্থাপন এবং পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায়, চুরি ও ডাকাতির ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করে গত ৪ জানুয়ারি ভোর রাত সোয়া ৩টার দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলার জাঙ্গালিয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি আভিযানিক দল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, একটি আন্তঃজেলা অভ্যাসগত গরু ডাকাত চক্র চোরাইকৃত গাভী গরু বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে একটি পিকআপ ভ্যানে করে ফেনী থেকে ব্রাহ্মণপাড়ার দিকে রওনা হয়েছে।
এমন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে আন্তঃজেলা চোর/ডাকাত চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানে বিভিন্ন জাতের ৮টি চোরাই গাভী গরু, একটি নীল-হলুদ রঙের পিকআপ ভ্যান এবং চুরি ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা চান্দিনা ও লাকসাম থানার বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত গরু ডাকাতির ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পূর্বের অপরাধ রেকর্ড যাচাই করা হচ্ছে এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—মাহমুদ @ সিফাত (১৯), থানা—চান্দিনা, জেলা—কুমিল্লা (পূর্বে ৪টি মামলা রয়েছে)
মোঃ বেলাল (৪২), থানা—সেনবাগ, জেলা—নোয়াখালী (পূর্বে ৪টি মামলা রয়েছে),মোঃ নুর নবী @ সুমন (২৫), থানা—সেনবাগ, জেলা—নোয়াখালী (পূর্বে ১টি মামলা রয়েছে)
মোঃ রাহাত @ রাজু (২৮), থানা—টঙ্গী পশ্চিম, জেলা—গাজীপুর
উদ্ধারকৃত মালামাল—বিভিন্ন জাতের ৮টি গাভী গরু
একটি নীল-হলুদ রঙের পিকআপ ভ্যান,একটি দেশীয় তৈরি এলজি (বাটসহ দৈর্ঘ্য ১৯ ইঞ্চি),২ রাউন্ড বার বোর কার্তুজ
একটি কমলা রঙের লোহার কাটার (দৈর্ঘ্য ২৯.৫ ইঞ্চি)
একটি কাঠের বাটযুক্ত ধারালো হাসুয়া (দৈর্ঘ্য ২৩.৫ ইঞ্চি)
একটি প্লাস্টিকের হাতলযুক্ত লোহার কুড়াল (দৈর্ঘ্য ২৪ ইঞ্চি)
একটি লোহার রড (দৈর্ঘ্য ১৬ ইঞ্চি),একটি প্লাস্টিকের বাটযুক্ত স্টিলের চাপাতি (দৈর্ঘ্য ১১.৫ ইঞ্চি),কমলা রঙের বক্সে ২টি রকেট প্যারাসুট ফ্লেয়ার (ডাকাতির সময় সংকেত প্রদানের কাজে ব্যবহৃত),একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা
পুলিশ জানায়, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং গরু চুরি-ডাকাতি রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


















