Dhaka 11:24 am, Wednesday, 14 January 2026

বাংলাদেশ এলডিসি গ্রুপে থাকার মতো দেশ না: ড. দেবপ্রিয়

Reporter Name
  • Update Time : 12:37:15 pm, Monday, 2 December 2024
  • / 175 Time View
৪৬

অগ্নিশিখা প্রতিবেদকঃ গত ১৫ বছরের উন্নয়ন বয়ানের তথ্য-উপাত্তে শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি ব্যাপক ঘাটতি পেয়েছে জানিয়ে কমিটির প্রধান ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, উন্নয়নের বয়ানের সবচেয়ে বড় খলনায়ক তথ্য-উপাত্ত।

বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে ফাঁদে পড়েছে। দেশে দারিদ্র্য নিরসনে যে অর্জন তা টোকা দিলেই ভেঙে পড়বে। বাংলাদেশের অবস্থা এলডিসি (লিস্ট ডেভেলপড কান্ট্রি বা স্বল্পোন্নত দেশ) গ্রুপে থাকার মতো না। বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের ফাঁদে আটকে গেছে। এর থেকে উত্তরণে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও যথাযথ সংস্কার প্রয়োজন।

সোমবার (২ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন এসব কথা বলেন শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি।

সংবাদ সম্মেলনে কমিটির প্রধান ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আমি জাতিসংঘের বিভিন্ন দেশ নিয়ে কাজ করি। আমি বলতে চাই, এটা (বাংলাদেশে) এলডিসি গ্রুপে থাকার মতো দেশ না। আমাদের সক্ষমতা, যোগ্যতা, স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা- এসব দিয়ে এলডিসি গ্রুপে থাকার মতো কারণ নেই।

বর্তমান সরকারকে আগামী দুই বছরের কর্মপরিকল্পনা তৈরির পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা না গেলে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কার্যক্রম করা যাবে না। বিগত সরকারের আমলে চামচা পুঁজিবাদ থেকে চোরতন্ত্রে পরিণত হয়েছিল পুরো কাঠামো।

শ্বেতপত্র কমিটির অন্য সদস্যরা বলেন, পূর্বে দুর্নীতির একটা বড় অংশ দেশেই বিনিয়োগ হয়েছে। কিন্তু বিগত ১৫ বছরে ১০০ টাকা দুর্নীতি হলে ৬০ টাকাই দেশ থেকে পাচার হয়েছে। এসব পাচার হুন্ডি করে নয়, বরং প্রকল্পের মাধ্যমে পাচার হয়েছে। সরকারি ব্যয়ের প্রায় ৪০ শতাংশই তছরুপ হয়েছে।

কমিটির সদস্যরা বলেন, মেগা প্রকল্পে যে লুটপাট হয়েছে তা কয়েক প্রজন্ম ধরে শোধ করতে হবে। তাই বৈদেশিক ঋণের সুদের হার, গ্রেস পিরিয়ড এগুলো নিয়ে বৈদেশিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারকে আলোচনা করতে হবে। ঋণ পুনর্বিবেচনার কোনো বিকল্প নেই। এ ব্যাপারে সরকারকে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি দেশের রাজস্ব বাড়াতে আয়কর আদায়ে জোর দিতে হবে।

শ্বেতপত্র কমিটির সদস্যরা বলেন, বাংলাদেশের পদ্ধতিগত সংস্কার দরকার। হিসাব-নিকাশ, তথ্য-উপাত্তে ওপরের পর্যায়ে যে হস্তক্ষেপের সংস্কৃতি সেটির সবকটি দরজা বন্ধ করে দিতে হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বাংলাদেশ এলডিসি গ্রুপে থাকার মতো দেশ না: ড. দেবপ্রিয়

Update Time : 12:37:15 pm, Monday, 2 December 2024
৪৬

অগ্নিশিখা প্রতিবেদকঃ গত ১৫ বছরের উন্নয়ন বয়ানের তথ্য-উপাত্তে শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি ব্যাপক ঘাটতি পেয়েছে জানিয়ে কমিটির প্রধান ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, উন্নয়নের বয়ানের সবচেয়ে বড় খলনায়ক তথ্য-উপাত্ত।

বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে ফাঁদে পড়েছে। দেশে দারিদ্র্য নিরসনে যে অর্জন তা টোকা দিলেই ভেঙে পড়বে। বাংলাদেশের অবস্থা এলডিসি (লিস্ট ডেভেলপড কান্ট্রি বা স্বল্পোন্নত দেশ) গ্রুপে থাকার মতো না। বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের ফাঁদে আটকে গেছে। এর থেকে উত্তরণে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও যথাযথ সংস্কার প্রয়োজন।

সোমবার (২ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন এসব কথা বলেন শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি।

সংবাদ সম্মেলনে কমিটির প্রধান ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আমি জাতিসংঘের বিভিন্ন দেশ নিয়ে কাজ করি। আমি বলতে চাই, এটা (বাংলাদেশে) এলডিসি গ্রুপে থাকার মতো দেশ না। আমাদের সক্ষমতা, যোগ্যতা, স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা- এসব দিয়ে এলডিসি গ্রুপে থাকার মতো কারণ নেই।

বর্তমান সরকারকে আগামী দুই বছরের কর্মপরিকল্পনা তৈরির পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা না গেলে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কার্যক্রম করা যাবে না। বিগত সরকারের আমলে চামচা পুঁজিবাদ থেকে চোরতন্ত্রে পরিণত হয়েছিল পুরো কাঠামো।

শ্বেতপত্র কমিটির অন্য সদস্যরা বলেন, পূর্বে দুর্নীতির একটা বড় অংশ দেশেই বিনিয়োগ হয়েছে। কিন্তু বিগত ১৫ বছরে ১০০ টাকা দুর্নীতি হলে ৬০ টাকাই দেশ থেকে পাচার হয়েছে। এসব পাচার হুন্ডি করে নয়, বরং প্রকল্পের মাধ্যমে পাচার হয়েছে। সরকারি ব্যয়ের প্রায় ৪০ শতাংশই তছরুপ হয়েছে।

কমিটির সদস্যরা বলেন, মেগা প্রকল্পে যে লুটপাট হয়েছে তা কয়েক প্রজন্ম ধরে শোধ করতে হবে। তাই বৈদেশিক ঋণের সুদের হার, গ্রেস পিরিয়ড এগুলো নিয়ে বৈদেশিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারকে আলোচনা করতে হবে। ঋণ পুনর্বিবেচনার কোনো বিকল্প নেই। এ ব্যাপারে সরকারকে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি দেশের রাজস্ব বাড়াতে আয়কর আদায়ে জোর দিতে হবে।

শ্বেতপত্র কমিটির সদস্যরা বলেন, বাংলাদেশের পদ্ধতিগত সংস্কার দরকার। হিসাব-নিকাশ, তথ্য-উপাত্তে ওপরের পর্যায়ে যে হস্তক্ষেপের সংস্কৃতি সেটির সবকটি দরজা বন্ধ করে দিতে হবে।